পাকুন্দিয়ায় বঙ্গমাতার ৯২তম জন্মদিন উপলক্ষে; সেলাই মেশিন, অর্থ সহায়তা, চেক বিতরণ
মোঃ স্বপন হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার: পাকুন্দিয়ায় বঙ্গমাতা বেগম শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মদিন উপলক্ষে অসহায় দুস্থ মহিলাদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ, অর্থ সহায়তা ও সংগঠকদের মাঝে চেক প্রদান করা হয়। আজ (সোমবার) সকাল ১০ ঘটিকায় বঙ্গমাতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা ও ফুল নিবেদন করে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভার পর এ বিতরণ কার্যক্রম করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোজলিন শহীদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার শারফুল ইসলামের সঞ্চালনায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের পর স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দত্ত।
এসময় মহিলা কর্মকর্তা বলেন ‘বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।’ বাংলা ও বাঙালির ইতিহাসে যার নাম জড়িয়ে রয়েছে, তিনি আমাদের জাতির পিতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার জীবনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সেই ‘বিজয় লক্ষ্মী’ নারী হিসেবে এসেছিলেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ মুজিবের বাঙালি জাতির জনক হয়ে ওঠার পেছনে ফজিলাতুন্নেছার অবদান, অনুপ্রেরণা ও আত্মোৎসর্গ অনস্বীকার্য। তার কারণেই একটি জাতির মনে স্বাধীনতার স্বপ্ন বপণ করে এর স্বাদও এনে দিতে পেরেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তার রাজনৈতিক দর্শন ও আদর্শকে বাস্তবায়ন করতে পেছন থেকে কাজ করেছেন শেখ মুজিবের প্রিয় রেণু। ৮ আগস্ট এই মহীয়সী নারীর ৮৯তম জন্মদিন। জন্মদিনে সর্বজন শ্রদ্ধেয় মহিয়সী এ নারীর প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। বঙ্গমাতার আদর্শে আর মননে গড়ে উঠুক এদেশের নতুন প্রজন্মের নারীরা।
তারপরেই প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম রেনু, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম আকন্দ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মিজবাহ উদ্দিন, সহকারী কমিশনার ভূমি তানিয়া আক্তার, পাকুন্দিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সারওয়ার জাহান, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বেগম শামসুন্নাহার আপেল ও সমাপনী বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোজলিন শহীদ চৌধুরী।
এসময় বক্তারা বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের ক্ষেত্রেও রয়েছে বঙ্গমাতার বুদ্ধিমত্তার ছাপ। এরপর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে উত্তাল জনসমুদ্রে তর্জনি উঁচিয়ে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা দিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম- আমাদের মুক্তির সংগ্রাম; এবারের সংগ্রাম- স্বাধীনতার সংগ্রাম’। তার সেই ডাকেই স্বাধীনতার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঙালি। বঙ্গবন্ধুর এই স্বাধীনতার ডাকে ছিল বঙ্গমাতার মনস্তাত্ত্বিক সমর্থন। এই সমর্থন বঙ্গবন্ধুকে সাহস জুগিয়েছিল। আজ এই ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। এছাড়া ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চের পতাকা উত্তোলনেও বঙ্গবন্ধুর প্রধান উদ্দীপক ও পরামর্শক হিসেবে বিবেচনা করা যায় শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে। শুধু তাই নয়, মহান মুক্তিযুদ্ধের পুরো নয়টি মাস অসীম সাহস, দৃঢ় মনোবল ও ধৈর্য্য নিয়ে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন। এই সময়টায় অনেকটা বন্দিদশায় কেটেছে তাদের। ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির স্বাধীনতা অর্জিত হয়। ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পান। এরপর সেখান থেকেই লন্ডনে যান। লন্ডন থেকেই বেগম মুজিবের সঙ্গে তার প্রথম কথা হয়। স্বাধীনতার পর বীরাঙ্গনাদের উদ্দেশ্যে বঙ্গমাতা বলেন, ‘আমি তোমাদের মা। ’ তিনি বলেন, ‘এই বীরাঙ্গনা রমণীদের জন্য জাতি গর্বিত। তাদের লজ্জা কিংবা গ্লানিবোধের কোনো কারণ নেই। কেননা তারাই প্রথম প্রমাণ করেছেন যে, কেবল বাংলাদেশের ছেলেরাই নয়, মেয়েরাও আত্মমর্যাদাবোধে কী অসম্ভব বলীয়ান।
এমনকি আন্তর্জাতিকভাবে দেশকে তুলে ধরতেও বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে অবদান রেখেছেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। তার সঙ্গে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্ধিরা গান্ধীর বেশ ভালো সম্পর্ক ছিল। বিশ্বনেতারা বাংলাদেশ সফরকালেও বঙ্গবন্ধুর পাশে থাকতেন তিনি। সহধর্মিণী হিসেবে নয়, রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে আজীবন প্রিয়তম স্বামী শেখ মুজিবুর রহমানের ছায়াসঙ্গী ছিলেন শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি ইতিহাসের কালজয়ী মহানায়ক শেখ মুজিবের অনুপ্রেরণাদায়িনী হয়ে পাশে ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে সপরিবারে তাদের হত্যা করে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র। বাঙালি জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতিটি ধাপে ধাপে বঙ্গমাতার অবদান রয়েছে। আর সেটা বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী হিসেবে নয়, একজন নীরব দক্ষ সংগঠক হিসেবে। যিনি ধূপের মতো নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে বাঙালির মুক্তিসংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন এবং বঙ্গবন্ধুকে হিমালয়সম আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। এভাবেই তিনি হয়ে ওঠেছেন বাঙালি জাতির মমতাময়ী মাতা।
আলোচনা শেষে উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দত্ত সহ অতিথিবৃন্দ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ৭জন দুস্থ মহিলাদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ ও ২জন দুস্থ মহিলাকে নগদ ২০০০ টাকা করে ৪০০০ টাকা অর্থ সহায়তা এবং ৭ নারী সংগঠনের সংগঠকদের মাঝে ২২০,০০০ টাকার চেক প্রদান করা হয়।
অতিথিবৃন্দ







