মঙ্গলবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় অসহায় মানুষের পাশে উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার

 

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় অসহায় মানুষের পাশে উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার

মোঃ স্বপন হোসেন, নিজস্ব প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় অসহায় দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িছেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার স্বপন কুমার দত্ত।

অদ্য বুধবার (০৬/০২/২০২৪ইং) উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের চরকাওনা গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে সুমাইয়া জান্নাত (২২) এর পারিবারিক বিরোধ মিমাংসা নিষ্পত্তি করেছেন তিনি। ভুক্তভোগী স্থানীয়ভাবে অভিযোগ দায়ের করেন বিগত ২০/৩/২৩ তারিখে বিবাদী একই উপজেলার বাহাদিয়া গ্রামের মৃত মুর্শিদ উদ্দিনের ছেলে মোঃ আলতাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে।

মহিলা অফিসার জানান, ভুক্তভোগীর সহিত ইসলামী শরিয়ত ও রেজিঃ কৃত কাবিন মূলে বিবাহ হয় ভুক্তভোগীর স্বামীর। ভুক্তভোগীর স্বামী আলতাব উদ্দিন সৌদি প্রবাসী থাকায় সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় বিয়ে টিকানো সম্ভব না হওয়ায় দেনমোহর ও ইদ্দতকালীন সময় বাবদ নগদ ১,৭৫,০০০/- (এক লক্ষ পঁচাত্তর টাকা) সহ একটি অংটি, খাট, ডেসিং টেবিল আদায় করে সুমাইয়া জান্নাতের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

অন্য দিকে উপজেলার পৌরসভার টান লক্ষীয়া গ্রামের মৃত আপেল মিয়া এবং আনোয়ারা খাতুনের মেয়ে ও দিনমজুর মানিক মিয়ার স্ত্রী চাঁদনী আক্তার (২০) কে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির (মাতৃত্বকালীন/শিশু ভাতা) ভাতাভুগীর আওতাভুক্ত করে দিয়েছেন।

মহিলা অফিসার আরও জানান, দুইবোনের মধ্যে বড় বোন ঝিনুক মালা আগুনে পুড়ে মুখমণ্ডল বিকৃত (প্রতিবন্ধী)। প্রতিদিন থানার পাশে বসে মানুষের দয়ায় (সাহায্যে) জীবিকা নির্বাহ করে। চাঁদনী সেদিন বোনের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। অসহায় চাঁদনী আক্তার  মানুষের বাসায় কাজ করত। এখন অসুস্থ  থাকায় অনাগত শিশুর ভবিষ্যত চিন্তা করে আমি তাকে অফিসে যোগাযোগ করতে বলি। অনেক ঘুরাঘুরি করে পৌরসভার স্থানীয়  ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রিপন এঁর সহায়তায় কাগজপত্র সংগ্রহ করে। তিনি (০৬) ছয় মাসের গর্ভবতী। মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় তাকে ভাতাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করি। প্রতিমাসে ৮০০/- (আটশত) টাকা করে তিন বছর পাবেন এই হত দরিদ্র পরিবারটি।

এ বিষয়টি নিয়ে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের নজর কেড়েছেন মানবিক মহিলা অফিসার। তিনি এর পূর্বেও বিভিন্ন মানবিক কাজ করে প্রশংসা খুঁড়িয়েছেন।

রবিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৩

পাকুন্দিয়ায় বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন; জয়িতাদের সংবর্ধনা ও ক্রেস্ট প্রদান


পাকুন্দিয়ায় বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন; জয়িতাদের সংবর্ধনা ও ক্রেস্ট প্রদান

মোঃ স্বপন হোসেন, নিজস্ব প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধপক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস ২০২৩ উদযাপন উপলক্ষে "জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ" শীর্ষক কর্মসূচী আওতায় ৫ টি ক্যাটাগরিতে ৫ জন জয়িতাকে সংবর্ধনা ও ক্রেস্ট  প্রদান করা হয়েছে।

সকালে উপজেলা হলরুমে আলোচনা শেষে ৫ টি ক্যাটাগরিতে ৫ জন জয়িতাকে সংবর্ধনা ও ক্রেস্ট  প্রদান করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।

জয়িতারা হলেন- অর্থনৈতিক ভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী সবিতা রানী বর্মন, পিতা: সন্তু চন্দ্র বর্মন, মাতা: ফলদাসী বর্মন, চরফরাদী ইউনিয়ন, গ্রাম: মীর্জাপুর, উপজেলা: পাকুন্দিয়া, জেলা: কিশোরগঞ্জ।

শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী মাসুমা সলতানা, পিতা: মো: ওয়াজি উদ্দিন, মাতা: শরীফ আরা খানম, হোসেন্দী ইউনিয়ন, গ্রাম: হোনেন্দী পর্বপাড়া, উপজেলা: পাকুন্দিয়া।

সফল জননী নারী মাহবুবা পারভীন, স্বামী: বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, মোজাম্মেলুর রহমান, মাতা: মোছাঃ হাজেরা খাতুন, হোসেন্দী ইউনিয়ন, গ্রাম: হোসেন্দী চরপাড়া, উপজেল: পাকুন্দিয়া, জেলা: কিশোরগঞ্জ।

নির্যাতনের বিভীষিকা ভুলে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করেছেন যে নারী মোছা: লাকী আক্তার, পিতা: মো: শামসুল আলম, মাতা: মোছা: জুয়েনা খাতুন, চন্ডিপাশা ইউনিয়ন, গ্রাম: চিলাকাড়া, পো: কোদালিয়া, উপজেলা: পাকুন্দিয়া, জেলা: কিশোরগঞ্জ।

সমান উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী শিমু, পিতা: সোহরাব উদ্দিন, মাতা: মিনারা বেগম, পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়ন, গ্রাম: রূপসা, উপজেলা: পাকুন্দিয়া, জেলা: কিশোরগঞ্জ।

এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বেগম রোকেয়ার জীবনী নিয়ে আলোচনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তানিয়া আক্তার, পাকুন্দিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ কফিল উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সাবেক কমান্ডার মজিবর রহমান, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জাহানারা বেগম, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামসুন্নাহার বেগম আপেল, প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আব্দুর রশিদ ভূঁইয়া, দুর্নীতি বিরোধী প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম শাহীন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেন্ডার প্রমোটার, সংগীত  শিক্ষক, আবৃত্তি শিক্ষক, সাংবাদিক ও কিশোর কিশোরী ক্লাবের ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ এবং সুধীজন।

উক্ত অনুষ্ঠানের আয়োজক উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দত্ত জানান, আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে বেগম রোকেয়া দিবস। তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, শিক্ষাব্রতী, সমাজসংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার অন্তর্গত পায়রাবন্দ ইউনিয়নে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে তার জন্ম। নারী জাগরণের এই অগ্রদূত এবং আলোর দিশারির জীবনকাল ছিল মাত্র ৫২ বছর। ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর কলকাতায় তার মৃত্যু হয়। নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষা, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, অধিকার ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় বেগম রোকেয়ার অবদান ও নারী জাগরণের অগ্রযাত্রায় অন্তহীন প্রেরণার উৎস হিসেবে প্রতিবছর এই দিবসটি পালন করা হয়। মহিলা ও শিশু  বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গতকাল বেগম  রোকেয়া দিবস ও  বেগম রোকেয়া পদক ২০২৩ প্রদান উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। নারী জাগরণে উদ্বুদ্ধকরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও গৌরাবোজ্জ্বল ভূমিকা রাখায় এবছর পাঁচজন বিশিষ্ট নারীকে বেগম রোকেয়া পদক দেয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ, ২০২৩

পাকুন্দিয়ায় নারী দিবসে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

 

পাকুন্দিয়ায় নারী দিবসে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

মোঃ স্বপন হোসেন, নিজস্ব প্রতিনিধি:

'ডিজিটাল প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, জেন্ডার বৈষম্য করবে নিরসন’ এর প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৩ উদযাপন উপলক্ষে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ করেছে পাকুন্দিয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর।

গতকাল (৮ই) মার্চ বুধবার সকালে উপজেলা চত্বরে র‍্যালি করেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী সহ সরকারি অধিদপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

র‍্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ ভবনের হলরুমে অতিথিদের আলোচনা সভা ও প্রতিযোগীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রেনু, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামসুন্নাহার বেগম আপেল, সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জাহানারা বেগম, পাকুন্দিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) নাহিদ হাসান সুমন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দত্ত, উপজেলা কৃষি অফিসার নুর ই আলম, উপজেলা মেডিকেল অফিসার ফারজানা জামান পুনম সহ উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মচারী ও কিশোর কিশোরী ক্লাবের সদস্যবৃন্দ।

শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

ভাষা দিবসে কুইজ বিজয়ীদের পুরস্কার তুলে দিয়েছে সেবাশ্রম ফাউন্ডেশন

 

ভাষা দিবসে কুইজ বিজয়ীদের পুরস্কার তুলে দিয়েছে সেবাশ্রম ফাউন্ডেশন

মোঃ স্বপন হোসেন, নিজস্ব প্রতিনিধি:

হোসেনপুরের শাহেদলে সেবাশ্রম ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে অমর একুশে কুইজ, রচনা প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

গত ২৪/০২/২০২৩ইং (বুধবার) বিকেলে সেবাশ্রম ফাউন্ডেশনের নিজস্ব কার্যালয় আশুতিয়া নতুন বাজারস্থ এ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৫নং শাহেদল ইউনিয়নের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ১২০ শিক্ষার্থী কুইজ ও রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে ৯জন বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আগত অতিথিরা।

পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন ক গ্রুপ (ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি) প্রথম আশুতিয়া ছামাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার, দ্বিতীয় এস আর ডি সামছুউদ্দিন ভূইয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী আরিফুর ইসলাম তালহা, তৃতীয় গলাচিপা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী স্বপনা আক্তার।

খ গ্রুপ (নবম থেকে দশম শ্রেণি) প্রথম আশুতিয়া ছামাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মাইশা আক্তার ও দ্বিতীয় মাইমুনা আক্তার এবং তৃতীয় রাদিয়া জাহান।

গ গ্রুপ (একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি) প্রথম গুরুদয়াল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান শ্রাবন্তি ও দ্বিতীয় তানজিনা আক্তার এবং তৃতীয় এস আর ডি সামছুউদ্দিন ভূইয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী চাদনী আক্তার।

এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান টিটু, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রৌশনারা রুনু, ৫নং শাহেদল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ফিরোজ উদ্দিন, ৫নং শাহেদল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ শাখার সভাপতি মোঃ আরিফুজ্জামান, ১নং ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ সাইফুল ইসলাম খোকন, স্যোশাল ইসলামি ব্যাংক আশুতিয়া নতুন বাজার শাখার ম্যানেজার মোঃ কামরুজ্জামান খোকন, চিলাকাড়া রাশিদিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাদার শিক্ষক মাওলানা নাজমুল হক সহ বিভিন্ন সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং সেবাশ্রম ফাউন্ডেশনের সকল সেচ্ছাসেবীবৃন্দ।

উক্ত অনুষ্ঠানের পুরস্কার স্পন্সর করেছেন  আশুতিয়া নতুন বাজার স্যোশাল ইসলামি ব্যাংক ও ডাচ্ বাংলা ব্যাংক এবং হোসেনপুর বাজারের হাসান বই বিতান।

বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

কিশোরগঞ্জ সমাজসেবা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত


কিশোরগঞ্জ সমাজসেবা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

মোঃ স্বপন হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার:

কিশোরগঞ্জ সমাজসেবা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ ঘটিকায় পুলেরঘাট আজাহারুল উলুম হোসাইনিয়া দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত ক্যাম্পে প্রায় তিন শতাধিক মানুষ বিনামূল্যে সেবা গ্রহণ করে।

কবি ও সাহিত্যিক সুলতানা আফজাল আইয়ুবীর সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন পুলেরঘাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মোঃ সাইফুল ইসলাম জাফরুল ভুঁইয়া, সহ-সভাপতিত্ব করেন পুলেরঘাট বাজার ঔষধ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ভি. ডা. মঞ্জিল মিয়া, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূর-এ-আলম খান, উদ্বোধক হিসেবে ছিলেন কিশোরগঞ্জ দীন চক্ষু হাসপাতালের পরিচালক রফিকুল হক টিটু।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৬নং পাটুয়াভাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান এমদাদুল হক জুটন, ৯নং চৌদ্দশত ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আতাহার আলী, ৯নং চন্ডিপাশা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শামছু উদ্দিন, পুলেরঘাট আজাহারুল উলুম হোসাইনিয়া দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মাও. আমিনুল ইসলাম, পুলেরঘাট বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন ভুঁইয়া, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ মোকাররম হোসেন ও বদরুল আলম বকুল এবং মোঃ ছহুল আহাম্মেদ সোবহানী, বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ আলম মিয়া, স্যোশাল ইসলামী ব্যাংক পুলেরঘাট শাখার ম্যানেজার জালাল উদ্দিন ভুঁইয়া ও পাকুন্দিয়া প্রতিদিনের স্টাফ রিপোর্টার মোঃ স্বপন হোসেন প্রমুখ।

উক্ত মেডিকেল ক্যাম্পে আগন্তুকদের বিনামূল্যে মেডিসিন, ডেন্টার, চক্ষু সেবা এবং রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও চোখের ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়।

শুক্রবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

সেই আলোচিত দিপা এইচএসসিতে জিপিএ ফোর পেয়ে উত্তীর্ণ

 

সেই আলোচিত দিপা এইচএসসিতে জিপিএ ফোর পেয়ে উত্তীর্ণ

মোঃ স্বপন হোসেন, নিজস্ব প্রতিনিধি:

পাকুন্দিয়ায় দুই দিনের নবজাতক নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেয়া সেই মোছা. তানিয়া সুলতানা দিপা পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়ে জিপিএ-৪.০০ পেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ (বুধবার) সন্ধ্যায় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দত্ত তাঁর ফেসবুক আইডিতে পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং তিনি সরেজমিনে সময় টিভির জেলা প্রতিনিধিকে নিয়ে দিপার বাড়িতে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

মোছা. তানিয়া সুলতানা দিপা গত বছরের নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হওয়া উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাকুন্দিয়া সরকারি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে অংশ নেয়। দুই দিনের নবজাতক নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সে সময় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে।

পাকুন্দিয়া আদর্শ মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কেন্দ্র তদারকির দায়িত্ব পান উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দত্ত। ওই কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিতে দুই দিনের বাচ্চা নিয়ে উপস্থিত হন মোছা. তানিয়া সুলতানা দিপা নামের ওই পরীক্ষার্থী। এসময় মানবতার হাত বাড়িয়ে দেন ওই কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠান প্রধান মোজাম্মেল হোসেন। তাদের সহযোগিতায় বাচ্চাটিকে হেফাজতে রেখে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের সুযোগ পান দিপা।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে ওই কর্মকর্তা স্বপন কুমার দত্ত বলেন, পড়ালেখার প্রতি মেয়েটির আগ্রহ দেখে আমি অভিভূত হই। পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট পর সে দুই দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়। তখন মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয় এবং কোলের শিশুটিকে কলেজ স্টাফদের হেফাজতে রাখা হয়েছিল। তার ফলাফলে আমরা আনন্দিত।

তিনি আরও বলেন, সেই আলোচিত ২ দিনের  বাচ্চা নিয়ে জীবনযুদ্ধে হার না মানা অদম্য নারী এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.০০ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। বিষয়টি আমাকে বেশ আনন্দিত করে তুলেছে। আসুন আমরা সকলেই যদি নারীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিই, তাহলে এ সকল জয়িতা (নারীরা) অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

বুধবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৩

সরকারি উপবৃত্তির আবেদন শুরু

 

এখানে ৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিশ্চিতকরণে

দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভর্তি সহায়তা জন্য আবেদন করা হয় । তাই আপনার সন্তানের ভর্তি সহায়তার জন্য আজই আবেদন করুন: বিসমিল্লাহ্ কম্পিউটার এন্ড ফটোস্ট্যাট, প্রোঃ মোঃ স্বপন হোসেন, মুর্শিদ উদ্দিন গন্ধী সুপার মার্কেট, আশুতিয়া নতুন বাজার, হোসেনপুর, কিশোরগঞ্জ, ০১৯৮২-92271২, ০১৭৩১-৭৮১০০৯।

ভর্তি সহায়তা: ৫০০০/৮০০০/১০০০০ টাকা । সময়সীমা: ১৭/০১/২০২৩ থেকে ১৬/০২/২০২৩ পর্যন্ত।

সূত্র: গত ১৬/০১/২০২৩ খ্রি. প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট উপবৃত্তি শাখা একটি পরিপত্র জারি করেন।

শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২২

পাকুন্দিয়ার ৫ নারী পেল জয়িতা সম্মাননা

 

পাকুন্দিয়ার ৫ নারী পেল জয়িতা সম্মাননা

মোঃ স্বপন হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার:

সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে দেশের নারী সমাজ। পুরুষের পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে এগিয়ে নিচ্ছে এদেশের নারীরা। কিন্তু খুব সহজেই সব নারীদের জীবনে সফলতা আসেনি। এজন্য করতে হয়েছে সংগ্রাম আর প্রাণপণ চেষ্টা। অনেকের রয়েছে অনেক করুন ইতিহাস। সব বাঁধা আর সমাজের নানা প্রতিবন্ধকতাকে পিছনে ফেলে যারা সফল হয়েছে তারাই তো জয়িতা। সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে অথবা ব্যক্তি জীবনে সফলতা পেয়েছে এমন নারীদের মধ্যে সরকার ৫টি ক্যাটাগরীতে জয়িতা সম্মাননা প্রদান করে থাকে। সংগ্রামী নারীদের জন্য এটি বিরল একটি সম্মাননা। সরকার এ সম্মাননা উপজেলা পর্যায় থেকে জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে প্রদান করে থাকে। 

প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও কিশোরগঞ্জ  জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার ৫জন নারী ৫টি ক্যাটাগরীতে পাচ্ছেন জয়িতা সম্মাননা। ৯ ডিসেম্বর শুক্রবার বেগম রোকেয়া দিবস ও জয়িতা সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক দপ্তর থেকে নিবার্চিত ৫ নারীকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ পত্র প্রদান করা হয় ।

এ বছর যে ৫জন নারী মনোনিত হয়েছেন তারা হলেন, শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী ক্যাটাগরীতে সুরাইয়া আক্তার, তিনি পৌরসভার পাইক লক্ষীয়া গ্রামের বাসিন্দা ।তাঁর পিতার নাম মোহাম্মদ আলী এবং মাতা নাজমা।  তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে অর্নাস সহ এম.এস.এস  করেন। বর্তমানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক পদে কর্মরত রয়েছেন। সফল জননী  ক্যাটাগরীতে আস্তিফা খাতুন। তিনি উপজেলার চরফরাদী গ্রামের নুর হোসেন এর সহধমীর্নি। সফল এ জননী ৪ সন্তানের মধ্যে ছেলে মোঃ জাকির হোসেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মনোহরদী কর্মরত।  তানজিনা আক্তার ইডেন কলেজ হতে এম.এস. এস. করেন। ফৌজিয়া আক্তার জাহাংগীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত। “নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করেছেন যে নারী ক্যাটাগরীতে কল্পনা আক্তার। তিনি পোড়াবাড়িয়া গ্রামের হারুন অর রশিদ শাহ মেয়ে। কল্পনা আক্তার এর স্বামী ২টি সন্তান রেখে আরেকটি বিবাহ করেছে। পিতার বাড়ীতে থেকে চরম অভাব অনটনের মধ্যে এইচএসসি পাশ করে বর্তমানে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছে। “অর্থনৈতিক ভাবে সাফল্য অর্জনকারী ক্যাটাগরীতে জান্নাতুল ফেরদৌস কলি। তিনি উপজেলার সৈয়দগাঁও গ্রামের মৃত মোঃ শাহ আলমের সহধমীর্নি । দুই বছরের  শিশু সন্তানকে রেখে স্বামী মৃত্যুবরণ করেন। নিন্মমধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা জান্নাতুল ফেরদৌস কলি এইচএসসি পাশ করার পর সেলাই প্রশিক্ষণ ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গরুর খামার, ফলের বাগান, কৃষিকাজ করে সাবলম্বী হয়েছেন। বর্তমানে তাঁর ৩/৪ জন শ্রমিক কাজ করে এবং তার সন্তান বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে। “ সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী  ক্যাটাগরীতে মুক্তা বেগম। তিনি উপজেলার ছয়চির গ্রামের রিটন মিয়ার স্ত্রী। তিনি নারী উদ্যোক্তা ও  প্রশিক্ষিত ধাত্রী কমিউনিটি পুষ্টি স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ বন্ধ, স্কুল ঝরে পড়ারোধ সহ সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দত্ত বলেন, সমাজের বিভিন্ন প্রতিকূলতা অতিক্রম করে জীবনযুদ্ধে জয়ী এসকল নারীদের বেগম রোকেয়া দিবস ও জয়িতা সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তাঁদেরকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

উপজেলা নিবার্হী অফিসার রোজলিন শহীদ চৌধুরী বলেন, এ ধরনের জয়িতা সম্মাননা প্রদান নারীদের জন্য সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। নারীদের জন্য এটি জাতীয় সম্মাননা এবং আর্তমযার্দার বিষয়। এবার যারা সম্মাননা পাচ্ছেন  তাদের সকলকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ, বেগম রোকেয়া দিবস ২০২২ উদযাপন উপলক্ষে "জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ" শীর্ষক কার্যক্রমের আওতায় শ্রেষ্ঠ জয়িতাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোজলিন শহীদ চৌধুরী, পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম আকন্দ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শামসুন্নাহার বেগম আপেল, সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জাহানারা বেগম, পাকুন্দিয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ কফিল উদ্দিন অধ্যক্ষ, এম.এ মান্নান মানিক কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ জসিম উদ্দিন, অধ্যক্ষ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দত্ত, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মোঃ রওশন করিম। এছাড়াও প্রশিক্ষক, জেন্ডার প্রমোটার, প্রশিক্ষণার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২২

পাকুন্দিয়ায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে উফশী জাতের বীজ ও সার বিতরণ

 

পাকুন্দিয়ায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে উফশী জাতের বীজ ও সার বিতরণ

মোঃ স্বপন হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার:

২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে রবি মৌসুমে বোরো ধানের উচ্চফলনশীল (উফশী) জাতের বীজ ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রধান অতিথি কিশোরগঞ্জ-০২ আসনের সাংসদ নূর মোহাম্মদ কার্যক্রমটি উদ্ভোধন করেন।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম রেনু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোজলিন শহীদ চৌধুরী, উপজেলা কৃষি অফিসার নূর-ই-আলম, পৌরসভা মেয়র মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম আকন্দ, পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোঃ নাহিদ হাসান, চরফরাদি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আঃ মান্নান, সুখিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আঃ হামিদ টিটু সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। 

উদ্ভোধনী বক্তব্য শেষে অতিথি ও নেতৃবৃন্দ কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে উফশী জাতের বীজ ও সার বিতরণ করেন।

উক্ত অনুষ্ঠানটির আয়োজনে ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পাকুন্দিয়া।

রবিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২২

পাকুন্দিয়ায় ২দিনের নবজাতক নিয়ে পরীক্ষা; মানবিক সহায়তায় মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা

 

পাকুন্দিয়ায় ২দিনের নবজাতক নিয়ে পরীক্ষা; মানবিক সহায়তায় মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা

মোঃ স্বপন হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার:

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ২দিনের নবজাতক শিশুকে নিয়ে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে উপজেলার এক পরীক্ষার্থী।

আজ ০৬ নভেম্বর, ২০২২ (রবিবার) সারা দেশের সাথে তাল মিলিয়ে পাকুন্দিয়া আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজে ৬৮৭জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে।

এতে ২দিনের নবজাতক শিশুকে নিয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা এক পরীক্ষার্থী কেন্দ্রের মূল গেইটে ধীরে ধীরে ঝুঁকে প্রবেশ করতেই বিষয়টি উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দত্তের নজরে আসে। তখনই তিনি তাঁর মানবিক দায়িত্বের হাত বাড়িয়ে দেন। তিনি নিজেও সন্তানকে কোলে তোলে নেন এবং পরীক্ষার্থীকে কষ্টবিহীন পরীক্ষা দিতে সহায়তা করেন।

এব্যাপারে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকার্তা মুঠোফোনে জানান, মূলকেন্দ্র দায়িত্ব পালন কালীন ৬৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজন গতকাল সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করে। আজ সকালে হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে ২দিনের নবজাতকসহ মা পরীক্ষা দিতে আসেন এবং নবজাতক রেখে পরীক্ষা দেয়। কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মোজাম্মেল হক খুবই আন্তরিক থাকায় তিনি মানবিক অনুরোধে নবজাতকের জন্য একটি আলাদা কক্ষের ব্যবস্থা করে দেয়।

এবিষয়ে প্রশংসায় ভাসছেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দত্ত।

বুধবার, ২ নভেম্বর, ২০২২

পাকুন্দিয়ায় ভিডাব্লিউবি’র অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

 

পাকুন্দিয়ায় ভিডাব্লিউবি’র অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

মোঃ স্বপন হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার:

পাকুন্দিয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় কর্তৃক আয়োজিত উপজেলা হলরুমে ভিডাব্লিউবি’র অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উক্ত সভায় মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি ও ভালনারেবল উইমেন বেনেফিট (ভিডাব্লিউবি) ২০২৩-২০২৪ চক্রের উপকারভোগী বাছাই, নির্বাচন, খাদ্য ও কার্ড বিতরণ পরিপত্র  সংক্রান্ত অবহিত করণ করা হয়েছে।

এতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ  রফিকুল ইসলাম রেনু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোজলিন শহীদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যানদ্বয়, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দত্ত, উপজেলা স্বাস্থ্য  ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার এবং ইউপি চেয়ারম্যানগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার, ৫ অক্টোবর, ২০২২

কবিতাপত্র শ্রেষ্ঠ তরুণ কবি পুরস্কার পাচ্ছে তিন কবি


 কবিতাপত্র শ্রেষ্ঠ তরুণ কবি পুরস্কার পাচ্ছে তিন কবি 

স্টাফরিপোর্টার : কবিতা বিষয়ক ছোট কাগজ ত্রৈমাসিক কবিতাপত্র আয়োজিত 'কবিতাপত্র তরুণ কবি পুরস্কার ২০২২' শ্রেষ্ঠ তিন কবি হিসেবে এ বছর পুরস্কার পাচ্ছেন কবি নূর আলম গন্ধী, এস আই শিমুল ও আদিত্য চন্দ্র।

প্রথমবারের মতো এবছর থেকে প্রতিবার অনূর্ধ্ব ৩৫ বছর বয়সী কবিদের এই পুরস্কার প্রদান করা হবে বলে জানান ত্রৈমাসিক কবিতাপত্র এর সম্পাদক শামসুল আলম রাফিন ।

গত ০৫ অক্টোবর, ২০২২ খ্রীঃ, বুধবার  আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব মহিউদ্দিন আজিম  নির্বাচিত এই তিন কবির নাম ঘোষণা করেন। তার মতে বর্তমান বাংলা সাহিত্যে তরুণদের উৎসাহিত করা প্রয়োজন, আর না হয় তরুণরা সাহিত্য চর্চায় দিনদিন আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। মূলত সেই দায়িত্ববোধ থেকেই তরুণদের জন্য ব্যতিক্রমী এই আয়োজন করেছে 'কবিতাপত্র'।

বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২

প্রিয় বাংলা পাণ্ডুলিপি পুরস্কার (৬ষ্ঠ আসর) বিজয়ীদের নাম ঘোষণা

 

প্রিয় বাংলা পাণ্ডুলিপি পুরস্কার (৬ষ্ঠ আসর) বিজয়ীদের নাম ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার: প্রিয় বাংলা পাণ্ডুলিপি পুরস্কার (৬ষ্ঠ আসর)- এর বিজয়ী লেখকদের নাম ঘোষণা করেছে প্রিয় বাংলা প্রকাশন। এ বছর মোট পাঁচজন লেখক এ পুরস্কার লাভ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রিয় বাংলা প্রকাশনের অফিসিয়াল ফেসবুক থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

এবারের আসরে পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকগণ হচ্ছেন- সীমান্ত আকরাম, মোহাম্মদ অংকন, মাসুদ রানা আশিক, আলোক আজম এবং নূর আলম গন্ধী। এর মধ্যে সীমান্ত আকরাম “সংস্কৃতি ও নজরুল” শীর্ষক প্রবন্ধের পাণ্ডুলিপির জন্য, মোহাম্মদ অংকন “কঙ্কাল রহস্য” উপন্যাসের পাণ্ডুলিপির জন্য, মাসুদ রানা আশিক “মেরুদণ্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি” গল্পগ্রন্থের পাণ্ডুলিপির জন্য, আলোক আজম “নিঃসঙ্গ বোধিবৃক্ষ” কাব্যগ্রন্থের পাণ্ডুলিপির জন্য এবং নূর আলম গন্ধী “ইচ্ছেডানা দূর অজানা” শিশুতোষ ছড়াগ্রন্থের জন্য প্রিয় বাংলা পাণ্ডুলিপি পুরস্কার লাভ করেন। 

প্রকাশনা জগতে “প্রিয় বাংলা” একটি পরিচিত নাম। গত ছয় বছর ধরে নিয়মিতভাবে “পাণ্ডুলিপি পুরস্কার” আয়োজন করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। ইতোমধ্যে এ পুরস্কারটি সাহিত্যাঙ্গনে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং বহু লেখকদের আকাঙ্খিত পুরস্কারে পরিণত হয়েছে। অন্যান্যবারের মতো এবারও মোট পাঁচটি ক্যাটাগরিতে পাঁচজন লেখককে বিজয়ী করা হয়েছে। বিজয়ী লেখকদের পাণ্ডুলিপিগুলো গ্রন্থাকারে প্রকাশ হবে প্রিয় বাংলার খরচে।

পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেক লেখক ৫০০০ টাকা করে লেখকসম্মানী পাবেন । পাশাপাশি সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদ এবং আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিও দেয়া হবে। দ্রুতই একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সাহিত্যাঙ্গনের বিখ্যাত ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিজয়ী সব লেখকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা সনদ এবং ক্রেস্ট তুলে দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে। এটি প্রিয় বাংলা পাণ্ডুলিপি পুরস্কারের ৬ষ্ঠ আসর। বিগত ৫ আসরে মোট ২৫ জন লেখককে পুরস্কৃত করেছিল প্রিয় বাংলা।

প্রিয় বাংলা পাণ্ডুলিপি পুরস্কার সাধারণত তুলনামূলক নবীন লেখকদেরকেই প্রদান করা হয়। এর কারণ জানতে চাইলে প্রিয় বাংলার প্রকাশক এস এম জসিম ভূঁইয়া জানান, বিখ্যাত লেখকদের বই তো সব প্রকাশকই প্রকাশ করেন। নতুনদের বই প্রকাশে অনীহা অনেকের। নবীনদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা ভালো লেখে কিন্তু সুযোগের অভাবে নিজেদের প্রতিভার প্রকাশ করতে পারে না। সেসব সুযোগ বঞ্চিত লেখকদেরকে কিছুটা সুযোগ করে দিতেই আমাদের এই আয়োজন।

আশাকরি এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কিছু লেখক নিজের অবস্থান গড়ে নিতে পারবে। প্রিয় বাংলার এই আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাহিত্যসংশ্লিষ্ট অনেকেই। নতুন নতুন লেখক এবং পাঠক তৈরিতে এ আয়োজনটি কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখবে বলে অনেকের বিশ্বাস। পুরস্কারপ্রাপ্ত পাণ্ডুলিপিগুলো বই আকারে পাওয়া যাবে আগামী ২০২৩ বইমেলায়।

সোমবার, ৮ আগস্ট, ২০২২

পাকুন্দিয়ায় বঙ্গমাতার ৯২তম জন্মদিন উপলক্ষে; সেলাই মেশিন, অর্থ সহায়তা, চেক বিতরণ

 

পাকুন্দিয়ায় বঙ্গমাতার ৯২তম জন্মদিন উপলক্ষে; সেলাই মেশিন, অর্থ সহায়তা, চেক বিতরণ

মোঃ স্বপন হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার: পাকুন্দিয়ায় বঙ্গমাতা বেগম শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মদিন উপলক্ষে অসহায় দুস্থ মহিলাদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ, অর্থ সহায়তা ও সংগঠকদের মাঝে চেক প্রদান করা হয়। আজ (সোমবার) সকাল ১০ ঘটিকায় বঙ্গমাতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা ও ফুল নিবেদন করে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভার পর এ বিতরণ কার্যক্রম করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোজলিন শহীদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার শারফুল ইসলামের সঞ্চালনায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের পর স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দত্ত।

এসময় মহিলা কর্মকর্তা বলেন ‘বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।’ বাংলা ও বাঙালির ইতিহাসে যার নাম জড়িয়ে রয়েছে, তিনি আমাদের জাতির পিতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার জীবনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সেই ‘বিজয় লক্ষ্মী’ নারী হিসেবে এসেছিলেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ মুজিবের বাঙালি জাতির জনক হয়ে ওঠার পেছনে ফজিলাতুন্নেছার অবদান, অনুপ্রেরণা ও আত্মোৎসর্গ অনস্বীকার্য। তার কারণেই একটি জাতির মনে স্বাধীনতার স্বপ্ন বপণ করে এর স্বাদও এনে দিতে পেরেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তার রাজনৈতিক দর্শন ও আদর্শকে বাস্তবায়ন করতে পেছন থেকে কাজ করেছেন শেখ মুজিবের প্রিয় রেণু। ৮ আগস্ট এই মহীয়সী নারীর ৮৯তম জন্মদিন। জন্মদিনে সর্বজন শ্রদ্ধেয় মহিয়সী এ নারীর প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। বঙ্গমাতার আদর্শে আর মননে গড়ে উঠুক এদেশের নতুন প্রজন্মের নারীরা। 

তারপরেই প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম রেনু, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম আকন্দ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মিজবাহ উদ্দিন, সহকারী কমিশনার ভূমি তানিয়া আক্তার, পাকুন্দিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সারওয়ার জাহান, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বেগম শামসুন্নাহার আপেল ও সমাপনী বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোজলিন শহীদ চৌধুরী।

এসময় বক্তারা বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের ক্ষেত্রেও রয়েছে বঙ্গমাতার বুদ্ধিমত্তার ছাপ। এরপর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে উত্তাল জনসমুদ্রে তর্জনি উঁচিয়ে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা দিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম- আমাদের মুক্তির সংগ্রাম; এবারের সংগ্রাম- স্বাধীনতার সংগ্রাম’। তার সেই ডাকেই স্বাধীনতার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঙালি। বঙ্গবন্ধুর এই স্বাধীনতার ডাকে ছিল বঙ্গমাতার মনস্তাত্ত্বিক সমর্থন। এই সমর্থন বঙ্গবন্ধুকে সাহস জুগিয়েছিল। আজ এই ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। এছাড়া ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চের পতাকা উত্তোলনেও বঙ্গবন্ধুর প্রধান উদ্দীপক ও পরামর্শক হিসেবে বিবেচনা করা যায় শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে। শুধু তাই নয়, মহান মুক্তিযুদ্ধের পুরো নয়টি মাস অসীম সাহস, দৃঢ় মনোবল ও ধৈর্য্য নিয়ে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন। এই সময়টায় অনেকটা বন্দিদশায় কেটেছে তাদের। ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির স্বাধীনতা অর্জিত হয়। ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পান। এরপর সেখান থেকেই লন্ডনে যান। লন্ডন থেকেই বেগম মুজিবের সঙ্গে তার প্রথম কথা হয়। স্বাধীনতার পর বীরাঙ্গনাদের উদ্দেশ্যে বঙ্গমাতা বলেন, ‘আমি তোমাদের মা। ’ তিনি বলেন, ‘এই বীরাঙ্গনা রমণীদের জন্য জাতি গর্বিত। তাদের লজ্জা কিংবা গ্লানিবোধের কোনো কারণ নেই। কেননা তারাই প্রথম প্রমাণ করেছেন যে, কেবল বাংলাদেশের ছেলেরাই নয়, মেয়েরাও আত্মমর্যাদাবোধে কী অসম্ভব বলীয়ান।

এমনকি আন্তর্জাতিকভাবে দেশকে তুলে ধরতেও বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে অবদান রেখেছেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। তার সঙ্গে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্ধিরা গান্ধীর বেশ ভালো সম্পর্ক ছিল। বিশ্বনেতারা বাংলাদেশ সফরকালেও বঙ্গবন্ধুর পাশে থাকতেন তিনি। সহধর্মিণী হিসেবে নয়, রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে আজীবন প্রিয়তম স্বামী শেখ মুজিবুর রহমানের ছায়াসঙ্গী ছিলেন শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি ইতিহাসের কালজয়ী মহানায়ক শেখ মুজিবের অনুপ্রেরণাদায়িনী হয়ে পাশে ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে সপরিবারে তাদের হত্যা করে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র। বাঙালি জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতিটি ধাপে ধাপে বঙ্গমাতার অবদান রয়েছে। আর সেটা বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী হিসেবে নয়, একজন নীরব দক্ষ সংগঠক হিসেবে। যিনি ধূপের মতো নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে বাঙালির মুক্তিসংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন এবং বঙ্গবন্ধুকে হিমালয়সম আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। এভাবেই তিনি হয়ে ওঠেছেন বাঙালি জাতির মমতাময়ী মাতা।


আলোচনা শেষে উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দত্ত সহ অতিথিবৃন্দ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ৭জন দুস্থ মহিলাদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ ও ২জন দুস্থ মহিলাকে নগদ ২০০০ টাকা করে ৪০০০ টাকা অর্থ সহায়তা এবং ৭ নারী সংগঠনের সংগঠকদের মাঝে ২২০,০০০  টাকার চেক প্রদান করা হয়।


অতিথিবৃন্দ

মঙ্গলবার, ১৪ জুন, ২০২২

হাজী আফছর উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান

হাজী আফছর উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান

মোঃ স্বপন হোসেন, নিজস্ব প্রতিনিধি, পাকুন্দিয়া:

২০২২ শিক্ষাবর্ষে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ (মঙ্গলবার) সকালে পাকুন্দিয়া উপজেলাধীন চরফরাদি ইউনিয়নের ঝাউগারচরের সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান হাজী আফছর উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এতে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের সুযোগ্য প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ নাছির উদ্দিন, সহ সভাপতি শামসুন্নাহার মুক্তা।

বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের দাতা সদস্য মোঃ হানিছ মিয়া, মোঃ আজিজুল হাকিম সুমন, সমাজসেবক মোঃ ইয়াছিন, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকমণ্ডলী, কর্মচারী, শিক্ষার্থীবৃন্দ ও এলাকার সুধীগণ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আতিকুল রহমান।

উল্লেখ্য: চলতি বছরের আগামী ১৯ জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ থেকে সারাদেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

রবিবার, ৮ মে, ২০২২

পাকুন্দিয়ায় বিশ্ব মা দিবস উদযাপিত

 

পাকুন্দিয়ায় বিশ্ব মা দিবস উদযাপিত

মোঃ স্বপন হোসেন, নিজস্ব প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় বিশ্ব মা দিবস উদযাপিত হয়েছে।

আজ (রবিবার) বিশ্ব মা দিবস-২২ উপলক্ষে ২জন স্বপ্নজয়ী মায়েদের সংবর্ধনা ও ক্রেস্ট প্রদান, দুঃস্থ মায়েদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ, পা ধোয়া কর্মসূচী, শিশুদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের হলরুমে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানিয়া আক্তার।

একাডেমি সুপারভাইজার শারফুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, উপজেলা প্রাণিসম্পদক কর্মকর্তা ডা. আনোয়ার হোসেন, উপজেলা সাবরেজিষ্ট্রার মো. মহসিন উদ্দিন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দত্ত, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামসুন্নাহার আপেল, পৌর মেয়র মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম আকন্দ, চরফরাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান সহ শিক্ষা অফিসার, যুব উন্নয়ন অফিসার, পল্লী উন্নয়ন অফিসার, পপি শাখা ব্যবস্থাপক প্রমুখ।

বক্তব্য শেষে গান ও কবিতা আবৃত্তি পরিবেশন করা হয়।

মঙ্গলবার, ৩ মে, ২০২২

পাকুন্দিয়ায় আল ইত্তেফাক উল্লামা পরিষদের কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

 

পাকুন্দিয়ায় আল ইত্তেফাক উল্লামা পরিষদের কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

মোঃ সুমন আহমেদ, পাকুন্দিয়া প্রতিনিধি: ঘাগড়া আল ইত্তেফাক উল্লামা পরিষদের কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত।

আজ মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা চন্ডিপাশা ইউনিয়নের ঘাগড়া আল ইত্তেফাক উল্লামা পরিষদের কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুপুর ৩টা ঈদুল ফিতরের দিন ঘাগড়া সরদার বাড়ি  সংলগ্ন হাবু সাহেবের বাড়ির সামনে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর এন্ড ডিরেক্টর ডক্টর ফরিদ আহেমদ সোবাহানী।

অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাকুন্দিয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ হান্নান, ইসলামী ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখার এডিসি ইনচার্জ মোঃ জসিম উদ্দিন, পুলেরঘাট দীন ভিশন সেন্টার পরিচালক সাংবাদিক সুমন আহমেদ, নুরু মেম্বার, ফরিদ মেম্বার, হাজী আঃ জব্বার, হাবিবুর রহমান প্রধানি, সৈয়দ মিয়া, সোয়েব মিয়া, কাইয়ুম মিয়া প্রমুখ।

পরে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার হিসেবে ইসলামিক বিষয়ক বই উপহার তুলে দেন প্রধান অতিথি সহ অন্যান্য অতিথিরা। কুইজ প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল বালিশ খেলা, হাসঁ ধরা, বস্তা দৌড়, অনুষ্টানে ঘাগড়া সহ বিভিন্ন গ্রাম, মাদ্রাসার ছাত্র/ছাত্রী ও এলাকাবাসী অংশ গ্রহণ করেন।

সোমবার, ২ মে, ২০২২

ঈদের সুন্নত সমূহ

 

ঈদের দিনের সুন্নাতসমূহ:

(১) খুব সকালে ঘুম থেকে উঠা।

(২) মিসওয়াক করা।

(৩) গোসল করা।

(৪) সামর্থ্য অনুযায়ী উত্তম পোশাক পরিধান করা।

(৫) খুশবু ব্যবহার করা।

(৬) শরীয়তের সীমার ভিতর থেকে যথাসম্ভব সজ্জিত হওয়া।

(৭) ফজরের নামাযের পর জলদি ঈদগাহে উপস্থিত হওয়া।

(৮) ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে খোরমা/খেজুর খাওয়া ও বিজোড় সংখ্যক খাওয়া। খোরমা/খেজুর না থাকলে অন্য কোন মিষ্টি দ্রব্য খাওয়া। আর ঈদুল আযহার দিন নামাযের পূর্বে কিছু না খাওয়া।

(৯) ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে সদকায়ে ফিতর আদায় করা।

(১০) ঈদের নামায ঈদগাহে পড়া।

(১১) ঈদগাহে পায়ে হেটে যাওয়া।

(১২) ঈদগাহে এক রাস্তায় যাওয়া এবং অন্য রাস্তায় ফিরে আসা।

(১৩) ঈদুল ফিতরে অনুচ্চস্বরে এবং ঈদুল আযহায় উচ্চস্বরে তাকবীরে তাশরীক বলতে বলতে ঈদগাহে যাওয়া। তাকবীরে তাশরীক হলো الله أكبر الله أكبر لا إله إلا الله و الله أكبر الله أكبر و لله الخند

(বি.দ্র: ঈদের নামাযের পূর্বে নফল নামায পড়া মাকরুহ।)

দুই ঈদের রাতে ইবাদত করার ফযিলত : যে ব্যক্তি সওয়াবের আশায় দুই ঈদের রাতে (ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার রাতে) জামত থেকে ইবাদত-বন্দেগী করবে, তার কুলব (দিন) সেদিন (কঠিন কিয়ামতের দিন) মরবে না, যেদিন (ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে) সমস্ত কুলব মরে যাবে। (সুনানে ইবনে মাজাহ ১/১২৭, হাদীস : ১৭৮২; বাইহাকী শুআবুল ঈমান, হাদীস : ৩৭১১)।

শাওয়াল মাসের ছয় রোযার ফযিলত : যে ব্যক্তি রমযান মাসে রোযা রেখে শাওয়াল মাসে ৬টি রোযা রাখবে, সে সারা বছর রোযা রাখার সওয়াব পাবে। (সহীহ মুসলিম ১/৩৬৯, হাদীস : ১১৬৪)। ধন্যবাদ

শনিবার, ২ এপ্রিল, ২০২২

বিসমিল্লাহ্‌ কম্পিউটারের স্থান পরিবর্তন

 

#স্থান পরিবর্তন

বিসমিল্লাহ্‌ কম্পিউটার এন্ড ফটোস্ট্যাট

#আতিক ডাক্তারের ফার্মেসির সামনে

মুর্শিদ উদ্দিন সুপার মার্কেট

আশুতিয়া নতুন বাজার,

হোসেনপুর, কিশোরগঞ্জ।

০১৭৩১-৭৮১০০৯, ০১৯৮২-৯২২৭১২

প্রো: মোঃ স্বপন হোসেন

শনিবার, ২৬ মার্চ, ২০২২

সমকামিতা

 

সমকামিতা

সমকামিতা ইসলামে হারামই নয় বরং এটি অভিশপ্ত অপরাধ। যে অপরাধের কারণে আল্লাহ তাআলা কাওমে লুত তথা লুত আলাইহিস সালামের অপরাধী জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা তা তুলে ধরেছেন এভাবে-وَلُوطًا إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ أَتَأْتُونَ الْفَاحِشَةَ مَا سَبَقَكُم بِهَا مِنْ أَحَدٍ مِّن الْعَالَمِينَ‘এবং আমি লূতকে প্রেরণ করেছি। যখন সে স্বীয় সম্প্রদায়কে বলল- তোমরা কি এমন অশ্লীল কাজ করছ, যা তোমাদের পূর্বে সারা বিশ্বের কেউ করেনি?’ (সুরা আরাফ : আয়া ৮০)

إِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالَ شَهْوَةً مِّن دُونِ النِّسَاء بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ مُّسْرِفُونَ‘তোমরা তো কামবশতঃ পুরুষদের কাছে গমন কর নারীদেরকে ছেড়ে। বরং তোমরা সীমা অতিক্রম করেছ।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ৮১)

وَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهِ إِلاَّ أَن قَالُواْ أَخْرِجُوهُم مِّن قَرْيَتِكُمْ إِنَّهُمْ أُنَاسٌ يَتَطَهَّرُونَ‘তাঁর সম্প্রদায় এ ছাড়া কোনো উত্তর দিল না যে, বের করে দাও এদেরকে শহর থেকে। এরা খুব সাধু থাকতে চায়।’ (সুরা আরাফ : ৮২)

فَأَنجَيْنَاهُ وَأَهْلَهُ إِلاَّ امْرَأَتَهُ كَانَتْ مِنَ الْغَابِرِينَ‘অতঃপর আমি তাকে ও তাঁর পরিবার পরিজনকে বাঁচিয়ে দিলাম, কিন্তু তার স্ত্রী। সে তাদের মধ্যেই রয়ে গেল, যারা রয়ে গিয়েছিল। আমি তাদের উপর প্রস্তর বৃষ্টি বর্ষণ করলাম।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ৮৩)

وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِم مَّطَرًا فَانظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُجْرِمِينَ‘অতএব দেখ! গোনাহগারদের পরিণতি কেমন হয়েছে।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ৮৪)

আল্লাহ তাআলা সমকামিতার ভয়বাহ অন্যায় ও তাদের পরিণতি সম্পর্কে উল্লেখিত আয়াতসমূহে তুলে ধরেছেন। সমকামিতা ইসলামে হারাম ও সবচেয়ে বড় কবিরা গোনাহগুলোর মধ্যে অন্যতম। এমনকি অবৈধ যৌনাচার, জেনা-ব্যভিচারের গোনাহসমূহের চেয়েও মারাত্মক ধ্বংসযোগ্য অপরাধ।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে পাকে সমকামিতার অপরাধে জড়িতদের ব্যাপরে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন। হাদিসের বর্ণনায় এসেছে-রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা কাউকে লুত সম্প্রদায়ের কাজ (সমকামিতায়) জড়িত দেখলে; যে করে এবং যার সঙ্গে করা হয় উভয়কে হত্যা কর।’ (তিরমিজি)

হাদিসের অন্য বর্ণনায় সমকামিতার এ মরাত্মক অপরাধের পাশাপাশি নারীদের সঙ্গে অনৈতিক উপায় অবলম্বন করে তাদের পেছনের রাস্তায় যৌনাচারকেও কবিরা গোনাহ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা এসব অপরাধীদের দিকে তাকাবেন না মর্মেও হাদিসের বর্ণনা থেকে সুস্পষ্ট।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা ওই ব্যক্তির প্রতি দৃষ্টি দেবেন না, যে কোনো পুরুষের সঙ্গে সমাকামিতায় লিপ্ত হয় অথবা কোনো নারীর পেছনের রাস্তা দিয়ে সহবাস করে।’ (তিরমিজি)

ইসলামে সমকামিতা ও স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে যৌনাচার বা সহবাস হারাম তথা সবচেয়ে বড় কবিরা গোনাহ। এ অপরাধে মহান আল্লাহ তাআলা হজরত লুত আলাইহিস সালামের সময়ে শিলা/প্রস্তর বৃষ্টি দিয়ে পুরো জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। আর একই অপরাধে কাউকে দেখলে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

বিশেষ করেআল্লাহ তাআলা এ অপরাধে জড়িত কারো প্রতি দৃষ্টি দেবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। মানুষের জন্য এটি কত ভয়ংকর ও মারাত্মক ঘোষণা!

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহসহ সবাইকে উল্লেখিত অপরাধ দুইটি সমকামিতা ও বিকৃত যৌনাচার থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। ইসলামের সুন্দর বিধান অনুযায়ী জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন। আল্লাহর আজাব ও গজব থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন

লেখক: মাওলানা আবুল কাসেম বিপ্লব, সহযোগী অধ্যাপক, মঙ্গলবাড়ীয়া কামিল মাদরাসা, পাকুন্দিয়া, কিশোরগঞ্জ।

শুক্রবার, ১৮ মার্চ, ২০২২

সেরাদের সেরা স্টল উপজলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার স্টল


সেরাদের সেরা স্টল উপজলা মহিলা বিষয়ক  কর্মকর্তার স্টল

মোঃ স্বপন হোসেন, নিজস্ব প্রতিনিধি:

সেরা স্টল, সেরাদের সেরা স্টল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর ১০২ তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত মুক্তির উৎসব ও সুবর্ণ জয়ন্তী  মেলা-২০২২ এর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়, পাকুন্দিয়া, কিশোরগঞ্জ স্টল ।


গতকাল মেলায় গিয়ে দেখি অধিকাংশ লোকজনই উক্ত স্টল উপচে পড়া ভিড়, আগত লোক জনের অভিমত হলো ৪২ টি স্টলের মধ্যে  শ্রেষ্ঠ স্টল।


শিশু বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে কেক কাটছিলো বেশ কয়েকজন জন্ম দিনের ক্যাপ পরিহিত শিশু, এমন উপস্থিত ছিলেন জনাব রোজলিন শহীদ চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার,  জনাব তানিয়া আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও জনাব স্বপন কুমার দত্ত, উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার।


স্টলে দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধে নারীর অংশগ্রহণের চিত্র, গাঁয়ের হলুদ সাজ, বাল্যবিবাহ অভিশাপ, জেল জরিমানার  নাইকো মাফ এই স্লোগান নিয়ে বর, কনে, ঘটক, কাজী। নারী নির্যাতন আর, কখনোই  নয় এমন স্লোগান নিয়ে গ্রামীণ জনপদের চিত্র তুলে ধরেন, যা ছিলো  উপভোগ্য বৈচিত্র্যময়,  স্টলের মূল আকর্ষণ জীবন্ত ও ডামি ডল। এতে আইজিএ প্রকল্পের প্রশিক্ষনার্থীরাও অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়াও  সারাদিন ব্যাপী কিশোর কিশোরী ক্লাবের ছাত্র ছাত্রীরা সংগীত, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য, কৌতুক পরিবেশন করা হয়। তাছাড়াও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর বিভিন্ন  কার্যক্রম তুলে ধরেন, সকলের  অভিমত, সেরাদের সেরা স্টল, উপজলা মহিলা বিষয়ক  কর্মকর্তার স্টল।

সোমবার, ১৪ মার্চ, ২০২২

কবি নূর আলম গন্ধীর "শত ফুলের কথা" প্রবন্ধটি প্রকাশিত

 

কবি নূর আলম গন্ধীর "শত ফুলের কথা" প্রবন্ধটি প্রকাশিত

মোঃ স্বপন হোসেন, নিজস্ব প্রতিনিধি: অমর একুশে বইমেলা ২০২২ এ অক্ষরবৃত্ত প্রকাশন হতে প্রকাশিত হয়েছে শিশুসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক নূর আলম গন্ধীর ফুল বিষয়ক প্রবন্ধের বই শত ফুলের কথা। গ্লোসি পেপারে চাররঙা বইটি ২১৫ পৃষ্ঠার। বইটির চমৎকার প্রচ্ছদ করেছেন মোস্তাফিজ কারিগর, মূল্য ৮৪০ টাকা।

বইটির ব্যাপারে লেখক নূর আলম গন্ধীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, প্রকৃতির অফুরন্ত সৌন্দর্য ভারের বিশাল অংশজুড়ে রয়েছে ফুল। ফুলের প্রতি মানুষের ভালোবাসা বিশ্বজনীন। বিশ্বের সকল ভাষাভাষি ও শ্রেণী পেশার মানুষ তাদের সকল প্রকার শুভ ও পবিত্রতার কার্য সম্পাদনে ফুলকে বেছে নিয়েছে আপন থেকে অতি আপন নিয়মে। ফুলের উপস্থিতি ব্যতিত কোন অনুষ্ঠানই যেন জমেনা। বৃক্ষরাজির শাখায়িত পল্লবে ফোটা রং বাহারি ফুলের গন্ধ-সুবাস ও মাধুর্য আমাদের প্রকৃতি পরিবেশকে দিয়েছে অনাবিল মায়াময় রূপ। আমাদের দেশে বারোমাসব্যাপী ফোটে নানান রং গন্ধ-সুবাসের কতইনা ফুল। ফুলকে আমরা যেভাবেই মূল্যায়িত করি না কেন অধিকাংশ ফুলের বেলায় প্রকৃতি-পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি ফুল হতে জন্ম নেয়া ফল নতুন উদ্ভিদের বংশ বিস্তারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাছাড়া এ ফল প্রাণীকুলের আহার তথা বিভিন্ন রকম চাহিদা পূরণ করে আসছে পৃথিবীর জন্মলগ্ন হতে। আবার কিছু কিছু ফুল ব্যবহৃত হচ্ছে ভেষজ চিকিৎসায় যা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও মূল্যবান উপকরণ। আবার কোন কোন ফুল প্রকৃতি-পরিবেশের সৌন্দর্য বর্ধনের অংশ হিসেবে কাজে আসছে। বর্তমান সময়ে দেশে-বিদেশে ফুলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় শুরু হয়েছে ফুলের বাণিজ্যিক চাষাবাদ। আর গড়ে উঠেছে ফুল চাষ কেন্দ্রিক আত্মকর্মসংস্থান ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা, ফলে সুগম হয়েছে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ।

শত ফুল নিয়ে লেখা ফুল বিষয়ক প্রবন্ধের বইটিতে পাওয়া যাবে ফুল সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা এবং তারই পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট লেখার সাথে মানানসই ও উত্তম মানের আলোকচিত্র যা গাছপালা চেনার ক্ষেত্রে খুবই দরকারি। বইটিতে বৃক্ষ বা ফুলের তথ্য উপাত্ত সহজ সরল এবং সাবলিল ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাছাড়া ফুলের নাম বিভ্রাট সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বইটিতে বৃক্ষ বা ফুলের ক্ষেত্রে এর আদিনিবাস, পরিবার, উদ্ভিদতাত্তিক নাম, সর্বজন স্বীকৃত পরিচিত নাম ও আঞ্চলিক নাম স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

বইতে স্থান পাওয়া ফুলগুলি নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রকৃতি-পরিবেশের পরিচিত ও অধিক পরিচিত ফুলের পাশাপাশি রয়েছে বিলুপ্তপ্রায় ও অনেক দুর্লভ ফুল। রয়েছে বৃক্ষ, লতা, গুল্ম, জলজ ও কন্দজ জাতীয় ফুল বা গাছের কথা।

ব্যক্তিগত অনুসন্ধান এ গ্রন্থের বিশেষ উল্লেখযোগ্য দিক। পড়ার সুবিধার্থে বইটির প্রতিটি লেখা বর্ণক্রম অনুসারে সাজানো হয়েছে। সব দিক মিলে ‘শত ফুলের কথা’ নামক এ বইটি পুষ্পপ্রেমীদের জন্য প্রয়োজনীয় ও সংগ্রহে রাখার মতো একটি বই। আশাকরি বইটি পুষ্পপ্রেমী হৃদয়ের তৃষ্ণা নিবারণে ভূমিকা রাখবে।

বুধবার, ৯ মার্চ, ২০২২

শিশু কবি সাগর আকন্দ এর কবিতা "গণহত্যা"

 

গণহত্যা

সাগর আকন্দ

২৫শে মার্চের গণ হত্যা,

আজও ভুলেনি কেহ

চোখ বোজলেই ভেসে উঠে

লাক্ষো বাঙালির মৃতদেহ।

অবুজ শিশু শেখ রাসেল কে,

করেছিল যারা হত্যা,

আজও মুছেনি বাঙালির মন থেকে

শেখ রাসেলের কথা।

জাতির পিতা শেখ মুজিবের

সুযোগ্যা এক কন্যা,

সারা বিশ্বের দরবারে

মাথা উচু করে

বেঁচে আছে নাম তার শেখ হাসিনা।

স্বজন হারা শত ব্যথা

বুকে চাপা রেখে,

সারাটিক্ষণ বাবার মত

বাঙালির সুখের স্বপ্ন দেখে।

মনে করো না শেখ হাসিনা

স্বজন হারার ব্যথা গিয়েছে ভুলে

এক এক করে ঘাতকদের

দিচ্ছে ফাঁসিতে ঝুলে।

রচনাকাল: ০১/০১/২০১৫ খ্রিস্টাব্দ।

১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী, গলাচিপা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হোসেনপুর, কিশোরগঞ্জ।

সুকুমার রায় সাহিত্য পদক পেলেন শিশু সাহিত্যিক নূর আলম গন্ধী


সুকুমার রায় সাহিত্য পদক পেলেন শিশু সাহিত্যিক নূর আলম গন্ধী

মোঃ স্বপন হোসেন: সুকুমার রায় সাহিত্য পদক পেলেন জনপ্রিয় ছড়াকার ও শিশু সাহিত্যিক নূর আলম গন্ধী। ছড়া সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। নূর আলম গন্ধী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করে আসছেন। নিয়মিত লিখছেন বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায়।

তাঁর লেখা দেশের প্রথম সারির জাতীয় দৈনিকসহ আঞ্চলিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক পত্রিকা এবং অনলাইন ও লিটল ম্যাগাজিনে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা ৭ টি।

ইতোমধ্যে তিনি বাংলা সাহিত্যে বেশ পরিচিতি লাভ করেছেন। যদিও তিনি বিভিন্ন বিষয়ে লিখছেন, তবে তিনি মূলত শিশুসাহিত্যিক ও ছড়াকার। শিশুসাহিত্য ও ছড়া নিয়ে কাজ করা ও লিখায় অধিক মনোযোগী। তাঁর সম্পাদনায় ই আকারে প্রকাশিত হচ্ছে শিশু-কিশোর সাময়িকী ত্রৈমাসিক ‘হিজল’। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য সংগঠনের কর্মকান্ডে নিবিড়ভাবে জড়িত রয়েছেন।

গত ৪ মার্চ ২০২২ শুক্রবার বিকেলে সাহিত্য সংস্কৃতি সংগঠন "জেগে ওঠো নরসুন্দা এবং ১৮তম ছড়া উৎসব ও চন্দ্রাবতী মেলা-২০২২" এর পরিচালনা পর্ষদ কতৃক ছড়া উৎসবের অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ শহরের সমবায় কমিউনিটি সেন্টারে তাঁর হাতে এ পদক তুলে দেয়া হয়।

পদক প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর রবীন্দ্রনাথ চৌধুরী , প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম. এ আফজল, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ এস. ভি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহনাজ কবীর , কবি নির্মল জানা, ছড়াকার শাহজাহান কবীর এবং আরো সম্মানিত বিশেষ ব্যক্তিবর্গ, ছড়াকার-কবি ও সাহিত্যিক প্রমুখ।

মঙ্গলবার, ৮ মার্চ, ২০২২

মাওঃ এ.এন মোঃ ফয়জুর রহমানের জানাযা সম্পন্ন

 

মাওঃ এ.এন মোঃ ফয়জুর রহমানের জানাযা সম্পন্ন

মোঃ স্বপন হোসেনঃ নিজস্ব প্রতিনিধি: আজ (মঙ্গলবার) দুপুর আড়াই টায় পাকুন্দিয়া উপজেলাধীন সুখিয়া ইউনিয়নের ঠুটারজঙ্গল গ্রামের নিজ বাড়িতে কিশোরগঞ্জ টুটিয়ারচর দাখিল মাদরাসার সাবেক সুপার মাওঃ এ.এন মোঃ ফয়জুর রহমানের জানাযার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে।

দাপুনিয়া জে.এ.ডি দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মাওঃ খাইরুল ইসলামের সঞ্চালনায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা চেয়ে বক্তব্য রাখেন সুখিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আঃ হামিদ টিটু, সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আজিজুল হক তোতা, স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ ফিরোজ উদ্দিন ও মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ, ঠুটারজঙ্গল কাওয়ালীকান্দা ছিদ্দিকিয়া বায়তুল কুরআন হাফিজিয়া মাদরাসার পরিচালক পীরে কামেল আলহাজ্ব মাওঃ আলী হোসাইন, কিশোরগঞ্জ পাগলা মসজিদের ইমাম ও পাকুন্দিয়া উপজেলা মসজিদের খতিব এবং হয়বত নগর এ.ইউ কামিল মাদরাসার প্রধান মুফতি মাওঃ খলিলুর রহমান, মাওঃ আঃ ছাত্তার, আশুতিয়া ছামাদিয়া দাখিল মাদরাসার মুদাররিস মাওঃ মোঃ আজিজুর রহমান সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও উলামায়ে কেরাম প্রমুখ।

আলোচনা পর মরহুমের জানাযার নামাজ পড়ান উনার বড় ছেলে মাওঃ মোঃ নুরুল্লাহ। জানাযা শেষে মরহুমের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়।

উল্লেখ্য: কিশোরগঞ্জ টুটিয়ারচর দাখিল মাদরাসার সাবেক সুপার মাও. এ.এন মোঃ ফয়জুর রহমান গতকাল (সোমবার) রাত সাড়ে নয়টায় কিশোরগঞ্জ মোঃ আব্দুল হামিদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল ফরমাইয়াছেন। ইন্নাইলাইহে ওয়া ইন্নাইলাইহে রাজিউন। তিনি দীর্ঘদিন যাবত কিডনি, উচ্চ রক্তচাপ ও শাসকষ্ট রোগে ভুগতেছিলেন।

পাকুন্দিয়ায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন

 

পাকুন্দিয়ায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন

মোঃ স্বপন হোসেন, নিজস্ব প্রতিনিধি: “টেকসই আগামীর জন্য জেনডার সমতাই আজ অগ্রগণ্য” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়েছে।

আজ (মঙ্গলবার) সকালে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে র‌্যালি, উপজেলা পরিষদের হলরুমে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

তার পূর্বেই একটি র‌্যালি উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।র‍্যালি শেষে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোজলিন শহিদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দত্ত।

উপজেলা একাডেমি সুপারভাইজার শারফুল ইসলামের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রেনু, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি) তানিয়া আক্তার, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামসুন্নাহার আপেল, পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) নাহিদ হাসান সুমন, নারী উদ্যোক্তা শেফালী বেগম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস.এম সাইফুল আলম, কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।

আলোচনার পর উপজেলাধীন কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সদস্যদের কবিতা আবৃতি, উপস্থিত বক্তব্য, নৃত্য ইত্যাদি শেষে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

সোমবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

ইসলামে নামাজের গুরুত্ব

 ইসলামে নামাজের গুরুত্ব

মোঃ স্বপন হোসেন: নামাজ (সালাত) ইসলামের পাঁচটি রোকন মধ্যে দ্বিতীয় রোকন৷ এ বিষয়ে ইবনে ওমর রাঃ বলেন, আমি রাসুল (সঃ) কে বলতে শুনেছি— ইসলামের মূল ভিত্তি পাঁচটি , "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ" এর সাক্ষ্য প্রদান করা, সালাত কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, রমজান মাসের রোজা পালন করা এবং সামর্থ থাকলে হজ্বব্রত পালন করা ৷ (সহিহ মুসলিম; কিতাবুল ইমান) অপর হাদিসে রাসুল (সঃ) বলেছেন, দ্বীনের মূল বিষয় হলো ইসলাম, এবং মূল স্তম্ভ হলো নামাজ, আর তার সর্বোচ্চ চূড়া হলো জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ ৷ (সহিহ মুসলিম, তিরমিযী, মুসনাদে আহমাদ)। অন্য আরেক হাদিসে এসেছে– আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত: তিনি আল্লাহ্‌র রসূল (সঃ)-কে বলতে শুনেছেন, বলতো যদি তোমাদের কারো বাড়ির সামনে একটি নদী থাকে, আর সে তাতে প্রত্যহ পাঁচবার গোসল করে, তাহলে কি তাঁর দেহে কোন ময়লা থাকবে? তারা বললেন, তাঁর দেহে কোনরূপ ময়লা বাকী থাকবে না। আল্লাহ্‌র রসূল (সঃ) বললেন: এ হলো পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের উদহারণ। এর মাধ্যমে আল্লাহ্‌ তাআলা বান্দার গুনাহসমুহ মিটিয়ে দেন। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫২৮)

নামাজ না-পড়ার বা নামাজে অবহেলার শাস্তি: কুরআনে বর্ণিত নামাজ তরককারীর শাস্তির কথাগুলো মানুষ জানতে পারলে নামাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতে নিয়োজিত রাখবে। তাই কুরআনে ঘোষিত বেনামাজির শাস্তির কথাগুলো তুলে ধরা হলো- আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘তাদের পরে যারা তাদের স্থলাভিষিক্ত হল, তারা নামাজ নষ্ট করল (একেবারে নামাজ পড়ে না কিংবা মন চাইলে ) এবং নফসের লালসা-বাসনার অনুসরণ করল। সুতরাং তারা অচিরেই এই কুকর্মের (নামাজ নষ্টের ও প্রবৃত্তিপরায়ন হওয়ার) শাস্তি ভোগ করবে। অবশ্য যারা তওবা করেছে, ঈমান এনেছে ও সৎকর্মশীল হয়েছে তারা ব্যতিত।’ (সুরা মারইয়াম : আয়াত ৫৯)

বেনামাজির অবস্থান হবে সাকার জাহান্নামআল্লাহ তাআলা বান্দার প্রতি কাজের হিসাব নেবেন। আর প্রতি কাজের হিসাব দিতে না পারলে শাস্তি অবধারিত। শাস্তি প্রাপ্ত মানুষকে তাদের অপরাধে কথা জিজ্ঞাসা করা হলে তারা তাদের অপরাধগুলোও বলতে থাকবে। আল্লাহ তাআলা কুরআনে সে কথা তুলে ধরেন এভাবে-

‘কোন জিনিস (কাজ) তোমাদেরকে (সাকার) জাহান্নামে নিয়ে এল? তারা বলবে আমরা নামাজিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না। (সুরা আল-মুদ্দাচ্ছির : আয়াত ৪২-৪৩)

কোন জিনিস (কাজ) তোমাদেরকে (সাকার) জাহান্নামে নিয়ে এল? তারা বলবে আমরা নামাজিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না। (সুরা আল-মুদ্দাচ্ছির : আয়াত ৪২-৪৩)

যথাযথভাবে নামাজ না পড়ার শাস্তিযারা মোটেও নামাজ পড়ে না বা পড়লেও করে অবহেলা। আবার কোনো কোনো সময় নামাজ পড়ে আবার নামাজে দেরি করে। এমনকি নামাজে বিনয় ও নম্রতা না থাকলেও তা যথাযথভাবে আদায় বলে বিবেচিত হয় না। আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘সুতরাং দুর্ভোগ (ওয়াইল নামক জাহান্নামের কঠিন শাস্তি) সেসব নামাজ আদায়কারীদের জন্য যারা তাদের নামায সম্পর্কে উদাসিন।’ (সুরা মাউন : আয়াত ৪-৫)

হাশরের ময়দানে যেসব বেনামাজি অপমাণিত হবেদুনিয়াতে যারা যথাযথভাবে নামাজ আদায় করবে, পরকালে তারা আল্লাহর নির্দেশের সঙ্গে সঙ্গে সেজদায় লুটিয়ে পড়বে। আর যারা দুনিয়াতে যথাযথভাবে নামাজ পড়বে না, লোক দেখানো কিংবা সুনাম লাভের আশায় নামাজ পড়তো তারা সে দিন সেজদা করতে পারবে না। বরং তারা হবে অপমানিত ও লাঞ্ছিত। আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘(স্মরণ কর) সেই চরম সংকটময় কিয়ামত দিবসের কথা যেই দিন তাদেরকে আহবান করা হবে সেজদা করার জন্য কিন্তু তারা তা করতে সক্ষম হবেনা। তাদের দৃষ্টি অবনত হবে, হীনতা তাদের আচ্ছন্ন করবে অথচ যখন তারা নিরাপদ ছিল, তখন তো তাদের সেজদা করার আহ্বান করা হতো (কিন্তু তারা সেজদা করেনি)।’ (সুরা আল-কালাম : আয়াত ৪২-৪৩), তথ্য: ইউকিপিডিয়া।

আজ পবিত্র শবে মেরাজ এর রজনী

 

আজ পবিত্র শবে মেরাজ এর রজনী

মোঃ স্বপন হোসেন: ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযথ মর্যাদায় আজ সোমবার রাতে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পবিত্র শবে মেরাজ পালন করবেন। দিন পেরিয়ে আঁধার নামলেই আবির্ভাব ঘটবে এক অলৌকিক অসামান্য মহাপুণ্যে ঘেরা রজনির। এ রজনি মহাপবিত্র মহিমান্বিত লাইলাতুল মেরাজের। পবিত্র কোরআন ও সহীহ হাদিসের বর্ণনায় মেরাজের ঘটনাটি বিশ্বাস করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য এবং এই রজনী আল্লাহর ইবাদত (নফল নামাজ, তসবিহ ও কুরআন পাঠ) ও দিনে রোজা পালনের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ সম্ভব।

এ মহিমান্বিত রাতে আমাদের প্রিয় নবি হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত জিব্রাঈল আলাহিস্সালামের সঙ্গে পবিত্র কাবা হতে পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস হয়ে সপ্তাকাশের ওপর সিদরাতুল মুনতাহা হয়ে ৭০ হাজার নূরের পর্দা পেরিয়ে আরশে আজিমে মহান আল্লাহ তায়ালার দিদার লাভ করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা শবে মেরাজ। প্রিয় নবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর সব চেয়ে বড় মোজেজা এটি। ইসলামের ইতিহাসে এমনকি পুরো নবুয়তের ইতিহাসেও এটি এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। কারণ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব ও রাসূল হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছাড়া অন্য কোনো নবি এই পরম সৌভাগ্য লাভ করতে পারেননি। আর এ কারণেই হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বশ্রেষ্ঠ নবি।



উল্লেখ্য, মেরাজ রজনিতেই মানবজাতির শ্রেষ্ঠ ইবাদত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হয়। আল্লাহপাকের দিদার শেষে রাসূল (সা.) পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের হুকুম নিয়ে দুনিয়াতে প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি অবলোকন করেন সৃষ্টি জগতের সবকিছুর অপার রহস্য। মেরাজ শব্দটি আরবি, এর অর্থ ঊর্ধারোহণ। মেরাজের বড়দাগে অর্থ দাঁড়ায় সপ্তম আসমান, সিদরাতুল মুনতাহা, জান্নাত জাহান্নাম পরিদর্শন ও আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য পর্যন্ত ভ্রমণ। এ ছিল আল্লাহ তায়ালার মহান কুদরত, অলৌকিক নিদর্শন, নবুয়তের সত্যতার স্বপক্ষে এক বিরাট আলামত। জ্ঞানীদের জন্য উপদেশ, মু’মিনদের জন্য প্রমাণ হেদায়েত নেয়ামত, রহমত, মহান আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্যে হাজির হওয়া ও ঊর্ধ্বলোক সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন।

শবে মেরাজ মুসলমানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। হিজরির নবম মাসের ২৬ তারিখে মেরাজ অনুষ্ঠিত হয়। ইসলাম ধর্মে লাইলাতুল মেরাজ বা মেরাজের রাত, যাকে সাধারণত শবে মেরাজ বলা হয়। সেই রাতে ইসলামের নবি মুহাম্মদ (সা.) ঐশী পথে আরোহণ করেছিলেন। সেই রাতেই তিনি সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে দেখা করেন। ইবাদত বন্দেগির মধ্য দিয়ে মুসলমানরা এই মেরাজ রাত উদযাপন করে। এই রাতে আল্লাহ তার প্রিয় নবী মুহাম্মদকে অনেক কিছু দেখিয়েছেন। যেখানে সাধারণ জ্ঞানের বাইরে অনেক ঐশ্বরিক তথ্য ও ইতিহাস রয়েছে।

মহান আল্লাহ এত বড় এই ঘটনা দ্বারা বুঝাতে যা তাঁর বান্দাদেরকে বুঝাতে চেয়েছেন তার গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। শবে মেরাজ মুসলমানদের বড় ও পবিত্র পালনীয় আচার অনুষ্ঠানগুলোর একটি। লাইলাতুল মিরাজ বা পবিত্র এই রজনীর ঘটনা হাজারো সহীহ হাদিসের পাশাপাশি আসমানী কিতাব আল কোরআনে উল্লেখ রয়েছে। আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘অতঃপর তিনি নিকটে এসেছেন এবং অতীব নিকটবর্তী হয়েছেন। এমনকি দুই ধনুকের মত নিকটবর্তী হয়েছেন, এমনকি আরও অধিকতর নিকটবর্তী হয়েছেন। (সূরা নজম : আয়াত ৮ ও ৯)।

রবিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

নিখোঁজ সংবাদ

 নিখোঁজ সংবাদ



মোঃ এন.এইচ. ইমরান: পাকুন্দিয়া সরকারি কলেজ গার্ল-ইন রোভার স্কাউট এর সদস্য অন্তরা রানী বর্মনের পিতা নয়ন চন্দ্র বর্মন (৫০) গত ২৩/০২/২০২২ খ্রিস্টাব্দ রোজ বুধবার সকাল ৯.০০ ঘটিকায় বাড়ি থেকে সাইকেল নিয়ে পাকুন্দিয়া বাজারে যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে এখনো ফিরে আসেনি বাড়িতে। আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে খুঁজ নিয়েও কোনো  সন্ধান পাওয়া যাইনি।

হারানো ব্যক্তির বিবরণ:

নাম: নয়ন চন্দ্র বর্বন

বয়স: ৫০

গ্রাম: তারাকান্দি ( গোলাপ এমপি সাহেবের বাড়ির উত্তর পাশে বর্মন পাড়া)

থানা: পাকুন্দিয়া

জেলা: কিশোরগঞ্জ 

উচ্চতা: ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি

গায়ের রং: শ্যামলা

স্বাস্থ্য: মাঝারী 

বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় পড়নে ছিল অ্যাশ কালারের প্যান্ট, প্রিন্টের শার্ট ও উপরে কালো কালারের জ্যাকেট। উনি কিশোরগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলেন।

যদি কোনো স্ব-হৃদয়বান ব্যাক্তি উনার সন্ধান পান তাহলে নিন্মুক্ত নাম্বারে যোগাযোগ করার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করা হলো: ০১৯৩৯০৮৮৯০৫, ০১৭৬৫৩২৮০০৪।

শনিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

লাইলাতুল মেরাজ কী?

 জেনে নিন লাইলাতুল মেরাজ কী?

মোঃ স্বপন হোসেন: ইসলাম ধর্মমতে লাইলাতুল মেরাজ বা মেরাজের রাত, যা সচরাচর শবে মেরাজ হিসাবে আখ্যায়িত হয়, হচ্ছে যে রাতে ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সা.) ঐশ্বরিক উপায়ে ঊর্ধ্বাকাশে আরোহণ করেছিলেন এবং স্রষ্টার সাথে সাক্ষাৎ করেন।

অনেক মুসলমান এবাদত-বন্দেগীর মধ্য দিয়ে এই রাতটি উদ্‌যাপন করেন। আবার অনেক মুসলমান এই রাত উদ্‌যাপন করেন না বরং এই রাত উদ্‌যাপন করাকে বিদআত বলেন।

ইসলামে মেরাজের বিশেষ গুরুত্ব আছে, কেননা এই মেরাজের মাধ্যমেই ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের দ্বিতীয় স্তম্ভ অর্থাৎ নামাজ, মুসলমানদের জন্য অত্যাবশ্যক (ফরজ) করা হয় এবং এই রাতেই দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মুসলমানদের জন্য নিয়ে আসেন নবী মুহাম্মদ (সা.)।

ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী মুহাম্মাদের (সা.) নবুওয়াতের দশম বৎসরে (৬২০ খ্রিষ্টাব্দ) রজব মাসের ২৬ তারিখের দিবাগত রাতে ইসলামের নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) প্রথমে কাবা শরিফ থেকে জেরুজালেমে অবস্থিত বায়তুল মুকাদ্দাস বা মসজিদুল আকসায় গমন করেন এবং সেখানে তিনি নবীদের জামায়াতে ইমামতি করেন। অতঃপর তিনি বোরাক নামক বিশেষ বাহনে আসীন হয়ে ঊর্ধ্বলোকে গমন করেন। ঊর্ধ্বাকাশে সিদরাতুল মুনতাহায় তিনি আল্লাহ'র সাক্ষাৎ লাভ করেন। এই সফরে ফেরেশতা জিবরাইল তার সফরসঙ্গী ছিলেন। কুরআন শরিফের সুরা বনি ইসরাঈল এর প্রথম আয়াতে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে:

"পবিত্র মহান সে সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে নিয়ে গিয়েছেন আল মাসজিদুল হারাম থেকে আল মাসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার আশপাশে আমি বরকত দিয়েছি, যেন আমি তাকে আমার কিছু নিদর্শন দেখাতে পারি। তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।"[কুরআন-১৭:১], তথ্য: ইউকিপিডিয়া।

শুক্রবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

আজ বিডিআর বিদ্রোহ

 আজ বিডিআর বিদ্রোহ



মোঃ স্বপন হোসেন:

বিডিআর বিদ্রোহ হলো ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় তৎকালিন বিডিআরদের একটি গ্রুপ দ্বারা সংগঠিত বিদ্রোহ। বিদ্রোহের পর সংস্থাটির নাম পরিবর্তন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা সংক্ষেপে বিজিবি করা হয়। বর্তমানে বিজিবি নামে সংস্থাটি পরিচিত। এটি একটি আধা-সামরিক বাহিনী যার প্রধান কাজ বাংলাদেশের সীমানা পাহারা দেয়া। সে হিসেবে এরা সীমান্তরক্ষী বাহিনী নামেও পরিচিত।

বিদ্রোহী বিডিআর সৈন্যরা পিলখানায় বিডিআর সদর দফতর দখল করে বিডিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন অন্যান্য সেনা কর্মকর্তা ও ১৭ জন বেসামরিককে হত্যা করে। তারা বেসামরিক লোকদের উপর গুলি চালিয়েছিল, তারা অনেক অফিসার এবং তাদের পরিবারকে জিম্মি করেছিল, স্থাপনা ও সম্পদ ভাংচুর করেছিল এবং মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়েছিল।

বিদ্রোহের দ্বিতীয় দিনে বিডিআর ক্যাম্প আছে এমন অন্য ১২টি শহরে অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছিল। সরকারের সাথে একাধিক আলাপ-আলোচনার পরে বিদ্রোহীরা অস্ত্র সমর্পণ করে এবং জিম্মিদের মুক্তি দেয়। অস্ত্র সমর্পণের মধ্য দিয়ে এ বিদ্রোহের অবসান ঘটে।

২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়; আরও ২৫ জন বিদ্রোহে জড়িত থাকার কারণে তিন থেকে দশ বছরের মধ্যে কারাদণ্ড পেয়েছিল। আদালত অভিযুক্ত ২৭৭ জনকেও খালাস দিয়েছিল।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশন অভিযোগ করে যে এই বিচারগুলিতে আসামিদের পর্যাপ্ত সময়-সুযোগ দেয়া হয়নি, "নিষ্ঠুর প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষাকে সন্তুষ্ট করার জন্য বিচার কাজ সাজানো হয়েছে" বলে তারা অভিযোগ করে। তথ্য: ইউকিপিডিয়া

বৃহস্পতিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

বেকার যুব মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ; সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

 বেকার যুব মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ; সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

মোঃ স্বপন হোসেন, নিজস্ব প্রতিনিধি:

জাইকার অর্থায়নে ৩০জন বেকার যুব মহিলাদের ব্লক বাটিক এন্ড হ্যান্ড প্রিন্টিং ৭ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সমাপনীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল (বুধবার) সকালে পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ প্রশিক্ষণ সমাপনীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম রেনু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোজলিন শহীদ চৌধুরী, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ শামসুন্নাহার বেগম আপেল, উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার স্বপন কুমার দত্ত ও পাকুন্দিয়ার জাইকার প্রতিনিধি পলাশ চন্দ্র কর প্রমুখ।

এসময় ব্লক বাটিক এন্ড হ্যান্ড প্রিন্টিংয়ের ৩০ জন বেকার যুব মহিলাগণ উপস্থিত ছিলেন।

বেকার যুব মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছিল বলে জানান উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সুযোগ্য মহিলা বিষয়ক অফিসার স্বপন কুমার দত্ত।

সোমবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

মাতৃভাষার ইতিহাস

 


মাতৃভাষার ইতিহাস

মোঃ স্বপন হোসেন: ভাষা আন্দোলন দিবস (যা রাষ্ট্রভাষা দিবস বা শহীদ দিবস নামেও পরিচিত) বাংলাদেশে পালিত একটি জাতীয় দিবস। ১৯৫২ সালে তদানীন্তন পূর্ব বাংলায় আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়ার লক্ষ্যে যারা শহীদ হয় তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের জন্য এই জাতীয় দিবসটি পালন করা হয়।

প্রেক্ষাপট সম্পাদনা: ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় পূর্ব বাংলার বাংলা ভাষাভাষী ৪ কোটি ৪০ লাখ জনগণ পাকিস্তান অধিরাজ্যের অংশ হয়ে যায়। পাকিস্তানের সরকার, প্রসাশন, সামরিক বাহিনীতে পাকিস্তানের পশ্চিম প্রান্তের আধিপত্য দেখা দেয়। করাচিতে জাতীয় শিক্ষা সম্মেলনে শুধুমাত্র উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা এবং স্কুল ও মিডিয়াতে ব্যবহার করার প্রস্তাব করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে পূর্ব প্রান্তে এর প্রতিবাদ দেখা দেয়। ঢাকায় ছাত্ররা তমদ্দুন মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা আবুল কাসেমের নেতৃত্বে র‍্যালি বের করে। বৈঠকে বাংলাকে পাকিস্তানের একটি সরকারি ভাষা এবং পূর্ব বাংলার শিক্ষার মাধ্যম করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে, পাকিস্তান পাবলিক সার্ভিস কমিশন অনুমোদিত বিষয় তালিকা থেকে বাংলাকে বাদ দেয় এবং একই সঙ্গে মুদ্রার নোট এবং স্ট্যাম্প থেকে বাংলা মুছে ফেলা হয়। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ফজলুর রহমান উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেন।[৬] এতে বাঙালি জনগণ বিক্ষুব্ধ হয় এবং ছাত্রদের একটি বড় অংশ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাকে একটি সরকারী ভাষা করার দাবিতে ১৯৪৭ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জমায়েত হয়। এজন্য ছাত্ররা ঢাকায় মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে।

প্রতিবাদ সম্পাদনা: ঢাকায় ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি প্রতিবাদ মিছিল। ১৯৫২ সালের হিসেবে পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক ছিল বাঙালী, যারা মোট নাগরিকের প্রায় ৫৪%। ঐ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি (৮ ফাল্গুন ১৩৫৮) শুধুমাত্র উর্দুকে জাতীয় ভাষা হিসেবে ঘোষণার প্রতিবাদে বাঙালী ছাত্ররা সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে। সকাল নয়টায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে জড়ো হতে শুরু করে। সশস্ত্র পুলিশ বেষ্টিত ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সোয়া এগারোটার দিকে ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয় গেটে জড়ো হয়ে প্রতিবন্ধকতা ভাঙার চেষ্টা করে। ছাত্রদের একটি দল ঢাকা মেডিকেল কলেজের দিকে দৌড় দেয় এবং বাকিরা পুলিশ পরিবেষ্টিত ক্যাম্পাসে মিছিল করে। উপাচার্য পুলিশকে গুলি চালানো বন্ধ করতে এবং ছাত্রদেরকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার আদেশ দেন। ছাত্রদের চলে যাবার সময় পুলিশ ১৪৪ ধারা লঙ্ঘনের জন্য কিছু ছাত্রকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের সংবাদ পেয়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা পূর্ব বাংলা গণপরিষদ অবরোধ করে সেখানে তাদের প্রস্তাব উপস্থাপনের দাবি জানায়। ছাত্রদের একটি দল বিল্ডিঙের মধ্যে দ্রুত ঢোকার চেষ্টাকালে পুলিশ গুলি চালায় এবং তাতে সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার, শফিউর সহ অনেক ছাত্র নিহত হয়। হত্যাকাণ্ডের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সারা শহর জুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাট, অফিস ও গনপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ধর্মঘট শুরু হয়। আইনসভায়, মনোরঞ্জন ধর, বসন্তকুমার দাস, শামসুদ্দিন আহমেদ এবং ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সহ ছয় বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিনকে আহত ছাত্রদের দেখতে হাসপাতালে যাওয়ার দাবি জানান এবং শোকের চিহ্ন হিসেবে গণপরিষদ মুলতবির দাবি করেন। মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ, শরফুদ্দীন আহমেদ, শামসুদ্দীন আহমেদ খন্দকার এবং মশিউদ্দিন আহমেদ সহ সরকারি দলের কিছু সদস্য সমর্থন দেন। তবে নুরুল আমিন এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এই আন্দোলনের সাথে বেগম আফসরুন্নেসা, লিলি খান, আনোয়ারা খাতুন ও যুক্ত ছিলেন। বাংলার ভাষা আন্দোলনে আরো যে সকল নারী রা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেন, তাঁরা হলেন সুফিয়া ইব্রাহিম ও শাফিয়া খাতুন। এঁরা ভাষা-সৈনিক হিসেবে প্রণম্য। তথ্য: ইউকিপিডিয়া।


রবিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

আব্দুল হালিম হোসাইনী (রহঃ) এঁর জীবনী




আব্দুল হালিম হোসাইনী (রহঃ) এঁর জীবনী

মোঃ স্বপন হোসেন:

তিনি ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু করেন প্রাইমারী মক্তবে। কোরআন শিখেন তাঁর মায়ের কাছে। ১৯১৯ সালে তারাকান্দি সিনিয়র মাদ্রাসা স্থাপিত হওয়ার পর ১৯২৬ সাল পর্যন্ত সেখানে পড়াশোনা করেন এবং কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে শেষ পরীক্ষায় ৩য় স্থান অর্জন করেন। ১৯২৭ সালে ঢাকা হাম্মাদিয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়ন শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কৃতিত্বের সাথে এফ.এম পাশ করেন।

১৯৩০ সালে তিনি দেওবন্দ দারুল উলুম মাদ্রাসায় দাওরা হাদিসে ভর্তি হন। সেখানে দাওরায়ে হাদিস ও তাফসীরে ১ম স্থান অর্জন করেন এবং দারুল উলুম দেওবন্দ টাইটেলের বিভিন্ন কোর্স সম্পন্ন করেন। ১৯৩১ সালে তিনি লাহোর ওরিয়েন্টাল কলেজে শিক্ষা অর্জন করার পর পাঞ্জাব (লাহোর) ইউনিভার্সিটি থেকে ফাজেল উপাধি লাভ করেন। যতই দিন যায় ততই হযরত হুসাইনীর জ্ঞান লাভের তীর্ব আশা আকাঙ্ক্ষা বাড়তেই থাকে।

তিনি তার জ্ঞান পিপাসা পূর্ণ করার মানসে তৎকালীন ভারতের ওলীকূল শিরোমণি আরব আজমের উস্তাদ শায়খুল ইসলাম, সাইয়্যেদ হুছাইন আহমদ মাদানী (রহঃ)-এর দরবার শরীফে নিজেকে সোপর্দ করেন। মাদানী (রহঃ) এর দরবার শরীফে অবস্থান কালে লাহোর ওরিয়েন্টাল কলেজ ও মাতৃভূমি তারাকান্দি থেকে হুসাইনীর কাছে শিক্ষকতার প্রস্তাব আসে। কিন্তু মাদানী (রহ.) শিষদের মধ্যে বয়: কনিষ্ঠ সুদর্শন তরুণ হালিমকে কিছুতেই তাঁর সংশ্রব যেতে অনুমতি দেননি।

জবাব এল এখনও সময় হয়নি। সময়ের কালচক্রের ঘূর্ণয়ে একদিন এর পরিসমাপ্তি ঘটে। লাহোর ওরিয়েন্টাল কলেজের সম্মানিত অধ্যাপকের পদ মর্যাদাকে উপেক্ষা করে মাতৃভূমির ডাকে সাড়া দিয়ে তারাকান্দি মাদরাসার উন্নতির জন্য সব মায়া ত্যাগ করে চলে আসেন নিজ বাড়িতে। ১৯৩৭ সালে তিনি বৈবাহিক জীবনে আবদ্ধ হন।

আব্দুল হালিম হুসাইনী (রহঃ) তারাকান্দি সিনিয়র মাদরাসায় ৩-৪ বছর শিক্ষকতা করার পর অনিবার্য কারন বশত এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে ইশ^রগঞ্জ থানার ধনিয়াকান্দি হামিদিয়া মাদরাসায় ৪ বছর, কিশোরগঞ্জের আউলিয়াপাড়া মাদরাসায় ৬ বছর, নান্দাইল থানার জাহাঙ্গীরপুর সিনিয়র মাদরাসায় ৪ বছর কাল অধ্যাপনার কাজ করেন। এছাড়াও তিনি অসংখ্য মসজিদ, মাদরাসা, স্কুল-কলেজ, রাস্তা-ঘাট, পুল নির্মাণ করে নজিরবিহীন কর্মপ্রেরণা হিসেবে দেশবাসীর কাছে চির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।

স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় তিঁনি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেন। যদিও ১৯৬৯ সালের নির্বাচনে তিঁনি দলগত রাজনীতি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সমর্থন করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। পাক-বাহিনী বা মুক্তিবাহিনী কোন দলকেই তিনি সক্রিয় সমর্থন করেননি। মাওলানা আতাউর রহমান খান (সাবেক এমপি) ২০০৯ সালে জলসায় তিনি তার বক্তব্যে বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের এত্তেহাদুল উলামার ডাকা ১৯৭০ সালের কনফারেন্সে আব্দুল হালিম হোসাইনী (রহঃ) উপস্থিত আলেমগনকে লক্ষ করে বলেছিলেন, "আপনারা জেনে রাখুন,ববাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে গেছে , এর বিরোধীতা করে কোন লাভ নেই।" তখন আলেমগন তাঁকে পাগল বলে আখ্যায়িত করে ছিল।

জনাব হুছাইনী পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ও পাকবাহিনী কর্মকর্তাদের হুশিয়ার করে দিয়ে বলেন-তোমরা যদি নির্মম অত্যাচার বন্ধ না কর নিশ্চয়ই জেনে রাখ তোমাদের হুকুমাত ধ্বংস হয়ে যাবে। তোমাদের বিজয় অসম্ভব। এ দেশের মাটি থেকে লাজ্ঞিত হয়ে তোমাদের বিদায় নিতে হবে। ঠিক তাই হল। প্রতিনিয়ত মুক্তি ফৌজেরা দলে দলে এসে হুজুরের কাছে দোয়া চাইতো। বিজয় দিবসে মুক্তিযোদ্ধারা একত্র হয়ে কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে ক্যাপ্টেন মতিউর রহমানের নেতৃত্বে হুছাইনীকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। তাছাড়া স্বাধীনতার ১৭ দিন বয়সের সময় পাকুরিয়া মাদরাসায় অনুষ্ঠিত সভায় সৈয়দ আঃ সুলতানসহ বহু আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে তাদের বক্তব্য -ধর্ম ও রাজনীতি সম্পূর্ণ আলাদা এর বিরুদ্ধে জনাব হুছাইনী তার ভাষনে জোর প্রতিবাদ করেন।

তিনি বলেন “আদ্দীনু ওয়াল মুলকু তাওআমান” অর্থাৎ ধর্ম ও রাজনীতি জমজ সন্তানের ন্যায়। রাজনীতিতে তিঁনি কখনও পিছপা ছিলেন না। তিনি পাকুন্দিয়া মাদরাসা ময়দানে তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জনাব নূরুল আমিন ও ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস ময়দানে পাকিস্তানের রাষ্ট্র প্রধান জনাব আইয়ূব খানের অনুরূপ উক্তির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেছিলেন। জনাব হুছাইনী খুবই ন্যয় পরায়ণ সৎ ও প্রতিবাদী ছিলেন।

তার অনেক মোজেজা এখনো লোক মুখে প্রচলিত ও প্রতিফলিত। কয়েক যুগ আগের কথা – বরিল্যা গ্রামের উপর দিয়ে রাজাবাড়িয়া যাচ্ছিলেন হুছাইনী হুজুর, সাথে অনেক লোক। হঠাৎ একটি জলাধারের নিকট থেমে গেলেন। বললেন- বেকুবের দল,মসজিদে বীজ তলা করে রেখেছে। সাথী শিষ্য তাঁর এক প্রিয় ছাত্র ইয়াকুব আলী বললেন-এখানে মসজিদ কোথায় দেখলেন হুজুর ? হুছাইনী সেখানে দু-রাকাত নামাজ পড়ে চলে গেলেন। ২ বছর পর সেখানে ঠিকই একটি মসজিদ ও ফুরকানিয়া মাদরাসা স্থাপিত হয়।

আউলিয়াপাড়া যাওয়ার পথে একটি শিমুল গাছ। গাছের কান্তা (বড় শিঁকড়) রাস্তা বরাবর বাড়তেছে । হুছাইনী হজুর সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় তার চোখে পড়লো এইগাছের কান্তা। তিনি গাছের কান্তায় হাত বুলিয়ে বললেন-যেন রাস্তার দিকে আর না আসে। তাহলে রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচলে অসুবিধা হবে। কিছুদিন পর কান্তাটি আবার ইউ আকৃতির মত ঘুরে গেল। এখনো গাছটি সেখানে কালের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে।

এলাকার প্রবীণ মুরুব্বীদের কাছ থেকে জানা যায় বাংলাদেশের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ এরশাদ তার জীবদ্দশায় কোন এক সময় এসেছিলেন হুজুরের দোয়া নিতে, রাষ্ট্রপতি এরশাদকে তার নামের আগে হোসাইন শব্দটি সংযুক্ত করে দেন এই বুজুর্গ। এর পর থেকে তার নামের আগে হোসাইন যুক্ত করে লিখা হয় হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ ।

আল্লামা আব্দুল হালিম হুছাইনী (রহঃ) পৃথীবির মায়া ত্যাগ করে মহান এই সাধক, বুজুর্গ নিজ বাড়িতে ১৯৮৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর, ২৭ ভাদ্র, ৭ মহরম শুক্রবার দিবাগত রাত্রে ইন্তেকাল করেন। পরদিন পাকুন্দিয়া পাইলট হাই স্কুল মাঠে লাখো মুসল্লির অংশগ্রহনে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মরহুমের জানাজায় ইমামতি করেন-আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আলেম আল্লামা সৈয়দ মোসলেহ উদ্দিন (রহঃ)। জানাজা শেষে তাঁর নিজের হাতে গড়া তারাকান্দি জামিয়া হুসাইনিয়া আছ-আদুল উলুম কওমি ইউনিভার্সিটি ময়দানে চির নিদ্রায় শায়িত করা হয়। সংগ্রহীত

পাকুন্দিয়ায় ৩ দিন ব্যাপী ভূমি মেলা-২০২৫

মোঃ স্বপন হোসেন: কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ৩ দিন (২৫-২৭/০৫/২০২৫ খ্রিঃ) ব্যাপী ভূমি মেলা ২০২৫ উদবোধন করা হয়েছে। আজ (রবিবার) সকালে উপজেলার উপজেল...