সোমবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

ইসলামে নামাজের গুরুত্ব

 ইসলামে নামাজের গুরুত্ব

মোঃ স্বপন হোসেন: নামাজ (সালাত) ইসলামের পাঁচটি রোকন মধ্যে দ্বিতীয় রোকন৷ এ বিষয়ে ইবনে ওমর রাঃ বলেন, আমি রাসুল (সঃ) কে বলতে শুনেছি— ইসলামের মূল ভিত্তি পাঁচটি , "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ" এর সাক্ষ্য প্রদান করা, সালাত কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, রমজান মাসের রোজা পালন করা এবং সামর্থ থাকলে হজ্বব্রত পালন করা ৷ (সহিহ মুসলিম; কিতাবুল ইমান) অপর হাদিসে রাসুল (সঃ) বলেছেন, দ্বীনের মূল বিষয় হলো ইসলাম, এবং মূল স্তম্ভ হলো নামাজ, আর তার সর্বোচ্চ চূড়া হলো জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ ৷ (সহিহ মুসলিম, তিরমিযী, মুসনাদে আহমাদ)। অন্য আরেক হাদিসে এসেছে– আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত: তিনি আল্লাহ্‌র রসূল (সঃ)-কে বলতে শুনেছেন, বলতো যদি তোমাদের কারো বাড়ির সামনে একটি নদী থাকে, আর সে তাতে প্রত্যহ পাঁচবার গোসল করে, তাহলে কি তাঁর দেহে কোন ময়লা থাকবে? তারা বললেন, তাঁর দেহে কোনরূপ ময়লা বাকী থাকবে না। আল্লাহ্‌র রসূল (সঃ) বললেন: এ হলো পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের উদহারণ। এর মাধ্যমে আল্লাহ্‌ তাআলা বান্দার গুনাহসমুহ মিটিয়ে দেন। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫২৮)

নামাজ না-পড়ার বা নামাজে অবহেলার শাস্তি: কুরআনে বর্ণিত নামাজ তরককারীর শাস্তির কথাগুলো মানুষ জানতে পারলে নামাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতে নিয়োজিত রাখবে। তাই কুরআনে ঘোষিত বেনামাজির শাস্তির কথাগুলো তুলে ধরা হলো- আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘তাদের পরে যারা তাদের স্থলাভিষিক্ত হল, তারা নামাজ নষ্ট করল (একেবারে নামাজ পড়ে না কিংবা মন চাইলে ) এবং নফসের লালসা-বাসনার অনুসরণ করল। সুতরাং তারা অচিরেই এই কুকর্মের (নামাজ নষ্টের ও প্রবৃত্তিপরায়ন হওয়ার) শাস্তি ভোগ করবে। অবশ্য যারা তওবা করেছে, ঈমান এনেছে ও সৎকর্মশীল হয়েছে তারা ব্যতিত।’ (সুরা মারইয়াম : আয়াত ৫৯)

বেনামাজির অবস্থান হবে সাকার জাহান্নামআল্লাহ তাআলা বান্দার প্রতি কাজের হিসাব নেবেন। আর প্রতি কাজের হিসাব দিতে না পারলে শাস্তি অবধারিত। শাস্তি প্রাপ্ত মানুষকে তাদের অপরাধে কথা জিজ্ঞাসা করা হলে তারা তাদের অপরাধগুলোও বলতে থাকবে। আল্লাহ তাআলা কুরআনে সে কথা তুলে ধরেন এভাবে-

‘কোন জিনিস (কাজ) তোমাদেরকে (সাকার) জাহান্নামে নিয়ে এল? তারা বলবে আমরা নামাজিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না। (সুরা আল-মুদ্দাচ্ছির : আয়াত ৪২-৪৩)

কোন জিনিস (কাজ) তোমাদেরকে (সাকার) জাহান্নামে নিয়ে এল? তারা বলবে আমরা নামাজিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না। (সুরা আল-মুদ্দাচ্ছির : আয়াত ৪২-৪৩)

যথাযথভাবে নামাজ না পড়ার শাস্তিযারা মোটেও নামাজ পড়ে না বা পড়লেও করে অবহেলা। আবার কোনো কোনো সময় নামাজ পড়ে আবার নামাজে দেরি করে। এমনকি নামাজে বিনয় ও নম্রতা না থাকলেও তা যথাযথভাবে আদায় বলে বিবেচিত হয় না। আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘সুতরাং দুর্ভোগ (ওয়াইল নামক জাহান্নামের কঠিন শাস্তি) সেসব নামাজ আদায়কারীদের জন্য যারা তাদের নামায সম্পর্কে উদাসিন।’ (সুরা মাউন : আয়াত ৪-৫)

হাশরের ময়দানে যেসব বেনামাজি অপমাণিত হবেদুনিয়াতে যারা যথাযথভাবে নামাজ আদায় করবে, পরকালে তারা আল্লাহর নির্দেশের সঙ্গে সঙ্গে সেজদায় লুটিয়ে পড়বে। আর যারা দুনিয়াতে যথাযথভাবে নামাজ পড়বে না, লোক দেখানো কিংবা সুনাম লাভের আশায় নামাজ পড়তো তারা সে দিন সেজদা করতে পারবে না। বরং তারা হবে অপমানিত ও লাঞ্ছিত। আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘(স্মরণ কর) সেই চরম সংকটময় কিয়ামত দিবসের কথা যেই দিন তাদেরকে আহবান করা হবে সেজদা করার জন্য কিন্তু তারা তা করতে সক্ষম হবেনা। তাদের দৃষ্টি অবনত হবে, হীনতা তাদের আচ্ছন্ন করবে অথচ যখন তারা নিরাপদ ছিল, তখন তো তাদের সেজদা করার আহ্বান করা হতো (কিন্তু তারা সেজদা করেনি)।’ (সুরা আল-কালাম : আয়াত ৪২-৪৩), তথ্য: ইউকিপিডিয়া।

আজ পবিত্র শবে মেরাজ এর রজনী

 

আজ পবিত্র শবে মেরাজ এর রজনী

মোঃ স্বপন হোসেন: ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযথ মর্যাদায় আজ সোমবার রাতে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পবিত্র শবে মেরাজ পালন করবেন। দিন পেরিয়ে আঁধার নামলেই আবির্ভাব ঘটবে এক অলৌকিক অসামান্য মহাপুণ্যে ঘেরা রজনির। এ রজনি মহাপবিত্র মহিমান্বিত লাইলাতুল মেরাজের। পবিত্র কোরআন ও সহীহ হাদিসের বর্ণনায় মেরাজের ঘটনাটি বিশ্বাস করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য এবং এই রজনী আল্লাহর ইবাদত (নফল নামাজ, তসবিহ ও কুরআন পাঠ) ও দিনে রোজা পালনের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ সম্ভব।

এ মহিমান্বিত রাতে আমাদের প্রিয় নবি হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত জিব্রাঈল আলাহিস্সালামের সঙ্গে পবিত্র কাবা হতে পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস হয়ে সপ্তাকাশের ওপর সিদরাতুল মুনতাহা হয়ে ৭০ হাজার নূরের পর্দা পেরিয়ে আরশে আজিমে মহান আল্লাহ তায়ালার দিদার লাভ করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা শবে মেরাজ। প্রিয় নবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর সব চেয়ে বড় মোজেজা এটি। ইসলামের ইতিহাসে এমনকি পুরো নবুয়তের ইতিহাসেও এটি এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। কারণ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব ও রাসূল হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছাড়া অন্য কোনো নবি এই পরম সৌভাগ্য লাভ করতে পারেননি। আর এ কারণেই হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বশ্রেষ্ঠ নবি।



উল্লেখ্য, মেরাজ রজনিতেই মানবজাতির শ্রেষ্ঠ ইবাদত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হয়। আল্লাহপাকের দিদার শেষে রাসূল (সা.) পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের হুকুম নিয়ে দুনিয়াতে প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি অবলোকন করেন সৃষ্টি জগতের সবকিছুর অপার রহস্য। মেরাজ শব্দটি আরবি, এর অর্থ ঊর্ধারোহণ। মেরাজের বড়দাগে অর্থ দাঁড়ায় সপ্তম আসমান, সিদরাতুল মুনতাহা, জান্নাত জাহান্নাম পরিদর্শন ও আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য পর্যন্ত ভ্রমণ। এ ছিল আল্লাহ তায়ালার মহান কুদরত, অলৌকিক নিদর্শন, নবুয়তের সত্যতার স্বপক্ষে এক বিরাট আলামত। জ্ঞানীদের জন্য উপদেশ, মু’মিনদের জন্য প্রমাণ হেদায়েত নেয়ামত, রহমত, মহান আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্যে হাজির হওয়া ও ঊর্ধ্বলোক সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন।

শবে মেরাজ মুসলমানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। হিজরির নবম মাসের ২৬ তারিখে মেরাজ অনুষ্ঠিত হয়। ইসলাম ধর্মে লাইলাতুল মেরাজ বা মেরাজের রাত, যাকে সাধারণত শবে মেরাজ বলা হয়। সেই রাতে ইসলামের নবি মুহাম্মদ (সা.) ঐশী পথে আরোহণ করেছিলেন। সেই রাতেই তিনি সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে দেখা করেন। ইবাদত বন্দেগির মধ্য দিয়ে মুসলমানরা এই মেরাজ রাত উদযাপন করে। এই রাতে আল্লাহ তার প্রিয় নবী মুহাম্মদকে অনেক কিছু দেখিয়েছেন। যেখানে সাধারণ জ্ঞানের বাইরে অনেক ঐশ্বরিক তথ্য ও ইতিহাস রয়েছে।

মহান আল্লাহ এত বড় এই ঘটনা দ্বারা বুঝাতে যা তাঁর বান্দাদেরকে বুঝাতে চেয়েছেন তার গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। শবে মেরাজ মুসলমানদের বড় ও পবিত্র পালনীয় আচার অনুষ্ঠানগুলোর একটি। লাইলাতুল মিরাজ বা পবিত্র এই রজনীর ঘটনা হাজারো সহীহ হাদিসের পাশাপাশি আসমানী কিতাব আল কোরআনে উল্লেখ রয়েছে। আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘অতঃপর তিনি নিকটে এসেছেন এবং অতীব নিকটবর্তী হয়েছেন। এমনকি দুই ধনুকের মত নিকটবর্তী হয়েছেন, এমনকি আরও অধিকতর নিকটবর্তী হয়েছেন। (সূরা নজম : আয়াত ৮ ও ৯)।

রবিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

নিখোঁজ সংবাদ

 নিখোঁজ সংবাদ



মোঃ এন.এইচ. ইমরান: পাকুন্দিয়া সরকারি কলেজ গার্ল-ইন রোভার স্কাউট এর সদস্য অন্তরা রানী বর্মনের পিতা নয়ন চন্দ্র বর্মন (৫০) গত ২৩/০২/২০২২ খ্রিস্টাব্দ রোজ বুধবার সকাল ৯.০০ ঘটিকায় বাড়ি থেকে সাইকেল নিয়ে পাকুন্দিয়া বাজারে যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে এখনো ফিরে আসেনি বাড়িতে। আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে খুঁজ নিয়েও কোনো  সন্ধান পাওয়া যাইনি।

হারানো ব্যক্তির বিবরণ:

নাম: নয়ন চন্দ্র বর্বন

বয়স: ৫০

গ্রাম: তারাকান্দি ( গোলাপ এমপি সাহেবের বাড়ির উত্তর পাশে বর্মন পাড়া)

থানা: পাকুন্দিয়া

জেলা: কিশোরগঞ্জ 

উচ্চতা: ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি

গায়ের রং: শ্যামলা

স্বাস্থ্য: মাঝারী 

বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় পড়নে ছিল অ্যাশ কালারের প্যান্ট, প্রিন্টের শার্ট ও উপরে কালো কালারের জ্যাকেট। উনি কিশোরগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলেন।

যদি কোনো স্ব-হৃদয়বান ব্যাক্তি উনার সন্ধান পান তাহলে নিন্মুক্ত নাম্বারে যোগাযোগ করার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করা হলো: ০১৯৩৯০৮৮৯০৫, ০১৭৬৫৩২৮০০৪।

শনিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

লাইলাতুল মেরাজ কী?

 জেনে নিন লাইলাতুল মেরাজ কী?

মোঃ স্বপন হোসেন: ইসলাম ধর্মমতে লাইলাতুল মেরাজ বা মেরাজের রাত, যা সচরাচর শবে মেরাজ হিসাবে আখ্যায়িত হয়, হচ্ছে যে রাতে ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সা.) ঐশ্বরিক উপায়ে ঊর্ধ্বাকাশে আরোহণ করেছিলেন এবং স্রষ্টার সাথে সাক্ষাৎ করেন।

অনেক মুসলমান এবাদত-বন্দেগীর মধ্য দিয়ে এই রাতটি উদ্‌যাপন করেন। আবার অনেক মুসলমান এই রাত উদ্‌যাপন করেন না বরং এই রাত উদ্‌যাপন করাকে বিদআত বলেন।

ইসলামে মেরাজের বিশেষ গুরুত্ব আছে, কেননা এই মেরাজের মাধ্যমেই ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের দ্বিতীয় স্তম্ভ অর্থাৎ নামাজ, মুসলমানদের জন্য অত্যাবশ্যক (ফরজ) করা হয় এবং এই রাতেই দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মুসলমানদের জন্য নিয়ে আসেন নবী মুহাম্মদ (সা.)।

ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী মুহাম্মাদের (সা.) নবুওয়াতের দশম বৎসরে (৬২০ খ্রিষ্টাব্দ) রজব মাসের ২৬ তারিখের দিবাগত রাতে ইসলামের নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) প্রথমে কাবা শরিফ থেকে জেরুজালেমে অবস্থিত বায়তুল মুকাদ্দাস বা মসজিদুল আকসায় গমন করেন এবং সেখানে তিনি নবীদের জামায়াতে ইমামতি করেন। অতঃপর তিনি বোরাক নামক বিশেষ বাহনে আসীন হয়ে ঊর্ধ্বলোকে গমন করেন। ঊর্ধ্বাকাশে সিদরাতুল মুনতাহায় তিনি আল্লাহ'র সাক্ষাৎ লাভ করেন। এই সফরে ফেরেশতা জিবরাইল তার সফরসঙ্গী ছিলেন। কুরআন শরিফের সুরা বনি ইসরাঈল এর প্রথম আয়াতে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে:

"পবিত্র মহান সে সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে নিয়ে গিয়েছেন আল মাসজিদুল হারাম থেকে আল মাসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার আশপাশে আমি বরকত দিয়েছি, যেন আমি তাকে আমার কিছু নিদর্শন দেখাতে পারি। তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।"[কুরআন-১৭:১], তথ্য: ইউকিপিডিয়া।

শুক্রবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

আজ বিডিআর বিদ্রোহ

 আজ বিডিআর বিদ্রোহ



মোঃ স্বপন হোসেন:

বিডিআর বিদ্রোহ হলো ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় তৎকালিন বিডিআরদের একটি গ্রুপ দ্বারা সংগঠিত বিদ্রোহ। বিদ্রোহের পর সংস্থাটির নাম পরিবর্তন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা সংক্ষেপে বিজিবি করা হয়। বর্তমানে বিজিবি নামে সংস্থাটি পরিচিত। এটি একটি আধা-সামরিক বাহিনী যার প্রধান কাজ বাংলাদেশের সীমানা পাহারা দেয়া। সে হিসেবে এরা সীমান্তরক্ষী বাহিনী নামেও পরিচিত।

বিদ্রোহী বিডিআর সৈন্যরা পিলখানায় বিডিআর সদর দফতর দখল করে বিডিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন অন্যান্য সেনা কর্মকর্তা ও ১৭ জন বেসামরিককে হত্যা করে। তারা বেসামরিক লোকদের উপর গুলি চালিয়েছিল, তারা অনেক অফিসার এবং তাদের পরিবারকে জিম্মি করেছিল, স্থাপনা ও সম্পদ ভাংচুর করেছিল এবং মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়েছিল।

বিদ্রোহের দ্বিতীয় দিনে বিডিআর ক্যাম্প আছে এমন অন্য ১২টি শহরে অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছিল। সরকারের সাথে একাধিক আলাপ-আলোচনার পরে বিদ্রোহীরা অস্ত্র সমর্পণ করে এবং জিম্মিদের মুক্তি দেয়। অস্ত্র সমর্পণের মধ্য দিয়ে এ বিদ্রোহের অবসান ঘটে।

২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়; আরও ২৫ জন বিদ্রোহে জড়িত থাকার কারণে তিন থেকে দশ বছরের মধ্যে কারাদণ্ড পেয়েছিল। আদালত অভিযুক্ত ২৭৭ জনকেও খালাস দিয়েছিল।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশন অভিযোগ করে যে এই বিচারগুলিতে আসামিদের পর্যাপ্ত সময়-সুযোগ দেয়া হয়নি, "নিষ্ঠুর প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষাকে সন্তুষ্ট করার জন্য বিচার কাজ সাজানো হয়েছে" বলে তারা অভিযোগ করে। তথ্য: ইউকিপিডিয়া

বৃহস্পতিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

বেকার যুব মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ; সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

 বেকার যুব মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ; সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

মোঃ স্বপন হোসেন, নিজস্ব প্রতিনিধি:

জাইকার অর্থায়নে ৩০জন বেকার যুব মহিলাদের ব্লক বাটিক এন্ড হ্যান্ড প্রিন্টিং ৭ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সমাপনীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল (বুধবার) সকালে পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ প্রশিক্ষণ সমাপনীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম রেনু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোজলিন শহীদ চৌধুরী, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ শামসুন্নাহার বেগম আপেল, উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার স্বপন কুমার দত্ত ও পাকুন্দিয়ার জাইকার প্রতিনিধি পলাশ চন্দ্র কর প্রমুখ।

এসময় ব্লক বাটিক এন্ড হ্যান্ড প্রিন্টিংয়ের ৩০ জন বেকার যুব মহিলাগণ উপস্থিত ছিলেন।

বেকার যুব মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছিল বলে জানান উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সুযোগ্য মহিলা বিষয়ক অফিসার স্বপন কুমার দত্ত।

সোমবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

মাতৃভাষার ইতিহাস

 


মাতৃভাষার ইতিহাস

মোঃ স্বপন হোসেন: ভাষা আন্দোলন দিবস (যা রাষ্ট্রভাষা দিবস বা শহীদ দিবস নামেও পরিচিত) বাংলাদেশে পালিত একটি জাতীয় দিবস। ১৯৫২ সালে তদানীন্তন পূর্ব বাংলায় আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়ার লক্ষ্যে যারা শহীদ হয় তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের জন্য এই জাতীয় দিবসটি পালন করা হয়।

প্রেক্ষাপট সম্পাদনা: ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় পূর্ব বাংলার বাংলা ভাষাভাষী ৪ কোটি ৪০ লাখ জনগণ পাকিস্তান অধিরাজ্যের অংশ হয়ে যায়। পাকিস্তানের সরকার, প্রসাশন, সামরিক বাহিনীতে পাকিস্তানের পশ্চিম প্রান্তের আধিপত্য দেখা দেয়। করাচিতে জাতীয় শিক্ষা সম্মেলনে শুধুমাত্র উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা এবং স্কুল ও মিডিয়াতে ব্যবহার করার প্রস্তাব করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে পূর্ব প্রান্তে এর প্রতিবাদ দেখা দেয়। ঢাকায় ছাত্ররা তমদ্দুন মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা আবুল কাসেমের নেতৃত্বে র‍্যালি বের করে। বৈঠকে বাংলাকে পাকিস্তানের একটি সরকারি ভাষা এবং পূর্ব বাংলার শিক্ষার মাধ্যম করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে, পাকিস্তান পাবলিক সার্ভিস কমিশন অনুমোদিত বিষয় তালিকা থেকে বাংলাকে বাদ দেয় এবং একই সঙ্গে মুদ্রার নোট এবং স্ট্যাম্প থেকে বাংলা মুছে ফেলা হয়। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ফজলুর রহমান উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেন।[৬] এতে বাঙালি জনগণ বিক্ষুব্ধ হয় এবং ছাত্রদের একটি বড় অংশ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাকে একটি সরকারী ভাষা করার দাবিতে ১৯৪৭ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জমায়েত হয়। এজন্য ছাত্ররা ঢাকায় মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে।

প্রতিবাদ সম্পাদনা: ঢাকায় ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি প্রতিবাদ মিছিল। ১৯৫২ সালের হিসেবে পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক ছিল বাঙালী, যারা মোট নাগরিকের প্রায় ৫৪%। ঐ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি (৮ ফাল্গুন ১৩৫৮) শুধুমাত্র উর্দুকে জাতীয় ভাষা হিসেবে ঘোষণার প্রতিবাদে বাঙালী ছাত্ররা সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে। সকাল নয়টায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে জড়ো হতে শুরু করে। সশস্ত্র পুলিশ বেষ্টিত ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সোয়া এগারোটার দিকে ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয় গেটে জড়ো হয়ে প্রতিবন্ধকতা ভাঙার চেষ্টা করে। ছাত্রদের একটি দল ঢাকা মেডিকেল কলেজের দিকে দৌড় দেয় এবং বাকিরা পুলিশ পরিবেষ্টিত ক্যাম্পাসে মিছিল করে। উপাচার্য পুলিশকে গুলি চালানো বন্ধ করতে এবং ছাত্রদেরকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার আদেশ দেন। ছাত্রদের চলে যাবার সময় পুলিশ ১৪৪ ধারা লঙ্ঘনের জন্য কিছু ছাত্রকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের সংবাদ পেয়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা পূর্ব বাংলা গণপরিষদ অবরোধ করে সেখানে তাদের প্রস্তাব উপস্থাপনের দাবি জানায়। ছাত্রদের একটি দল বিল্ডিঙের মধ্যে দ্রুত ঢোকার চেষ্টাকালে পুলিশ গুলি চালায় এবং তাতে সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার, শফিউর সহ অনেক ছাত্র নিহত হয়। হত্যাকাণ্ডের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সারা শহর জুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাট, অফিস ও গনপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ধর্মঘট শুরু হয়। আইনসভায়, মনোরঞ্জন ধর, বসন্তকুমার দাস, শামসুদ্দিন আহমেদ এবং ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সহ ছয় বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিনকে আহত ছাত্রদের দেখতে হাসপাতালে যাওয়ার দাবি জানান এবং শোকের চিহ্ন হিসেবে গণপরিষদ মুলতবির দাবি করেন। মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ, শরফুদ্দীন আহমেদ, শামসুদ্দীন আহমেদ খন্দকার এবং মশিউদ্দিন আহমেদ সহ সরকারি দলের কিছু সদস্য সমর্থন দেন। তবে নুরুল আমিন এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এই আন্দোলনের সাথে বেগম আফসরুন্নেসা, লিলি খান, আনোয়ারা খাতুন ও যুক্ত ছিলেন। বাংলার ভাষা আন্দোলনে আরো যে সকল নারী রা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেন, তাঁরা হলেন সুফিয়া ইব্রাহিম ও শাফিয়া খাতুন। এঁরা ভাষা-সৈনিক হিসেবে প্রণম্য। তথ্য: ইউকিপিডিয়া।


রবিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

আব্দুল হালিম হোসাইনী (রহঃ) এঁর জীবনী




আব্দুল হালিম হোসাইনী (রহঃ) এঁর জীবনী

মোঃ স্বপন হোসেন:

তিনি ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু করেন প্রাইমারী মক্তবে। কোরআন শিখেন তাঁর মায়ের কাছে। ১৯১৯ সালে তারাকান্দি সিনিয়র মাদ্রাসা স্থাপিত হওয়ার পর ১৯২৬ সাল পর্যন্ত সেখানে পড়াশোনা করেন এবং কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে শেষ পরীক্ষায় ৩য় স্থান অর্জন করেন। ১৯২৭ সালে ঢাকা হাম্মাদিয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়ন শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কৃতিত্বের সাথে এফ.এম পাশ করেন।

১৯৩০ সালে তিনি দেওবন্দ দারুল উলুম মাদ্রাসায় দাওরা হাদিসে ভর্তি হন। সেখানে দাওরায়ে হাদিস ও তাফসীরে ১ম স্থান অর্জন করেন এবং দারুল উলুম দেওবন্দ টাইটেলের বিভিন্ন কোর্স সম্পন্ন করেন। ১৯৩১ সালে তিনি লাহোর ওরিয়েন্টাল কলেজে শিক্ষা অর্জন করার পর পাঞ্জাব (লাহোর) ইউনিভার্সিটি থেকে ফাজেল উপাধি লাভ করেন। যতই দিন যায় ততই হযরত হুসাইনীর জ্ঞান লাভের তীর্ব আশা আকাঙ্ক্ষা বাড়তেই থাকে।

তিনি তার জ্ঞান পিপাসা পূর্ণ করার মানসে তৎকালীন ভারতের ওলীকূল শিরোমণি আরব আজমের উস্তাদ শায়খুল ইসলাম, সাইয়্যেদ হুছাইন আহমদ মাদানী (রহঃ)-এর দরবার শরীফে নিজেকে সোপর্দ করেন। মাদানী (রহঃ) এর দরবার শরীফে অবস্থান কালে লাহোর ওরিয়েন্টাল কলেজ ও মাতৃভূমি তারাকান্দি থেকে হুসাইনীর কাছে শিক্ষকতার প্রস্তাব আসে। কিন্তু মাদানী (রহ.) শিষদের মধ্যে বয়: কনিষ্ঠ সুদর্শন তরুণ হালিমকে কিছুতেই তাঁর সংশ্রব যেতে অনুমতি দেননি।

জবাব এল এখনও সময় হয়নি। সময়ের কালচক্রের ঘূর্ণয়ে একদিন এর পরিসমাপ্তি ঘটে। লাহোর ওরিয়েন্টাল কলেজের সম্মানিত অধ্যাপকের পদ মর্যাদাকে উপেক্ষা করে মাতৃভূমির ডাকে সাড়া দিয়ে তারাকান্দি মাদরাসার উন্নতির জন্য সব মায়া ত্যাগ করে চলে আসেন নিজ বাড়িতে। ১৯৩৭ সালে তিনি বৈবাহিক জীবনে আবদ্ধ হন।

আব্দুল হালিম হুসাইনী (রহঃ) তারাকান্দি সিনিয়র মাদরাসায় ৩-৪ বছর শিক্ষকতা করার পর অনিবার্য কারন বশত এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে ইশ^রগঞ্জ থানার ধনিয়াকান্দি হামিদিয়া মাদরাসায় ৪ বছর, কিশোরগঞ্জের আউলিয়াপাড়া মাদরাসায় ৬ বছর, নান্দাইল থানার জাহাঙ্গীরপুর সিনিয়র মাদরাসায় ৪ বছর কাল অধ্যাপনার কাজ করেন। এছাড়াও তিনি অসংখ্য মসজিদ, মাদরাসা, স্কুল-কলেজ, রাস্তা-ঘাট, পুল নির্মাণ করে নজিরবিহীন কর্মপ্রেরণা হিসেবে দেশবাসীর কাছে চির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।

স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় তিঁনি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেন। যদিও ১৯৬৯ সালের নির্বাচনে তিঁনি দলগত রাজনীতি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সমর্থন করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। পাক-বাহিনী বা মুক্তিবাহিনী কোন দলকেই তিনি সক্রিয় সমর্থন করেননি। মাওলানা আতাউর রহমান খান (সাবেক এমপি) ২০০৯ সালে জলসায় তিনি তার বক্তব্যে বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের এত্তেহাদুল উলামার ডাকা ১৯৭০ সালের কনফারেন্সে আব্দুল হালিম হোসাইনী (রহঃ) উপস্থিত আলেমগনকে লক্ষ করে বলেছিলেন, "আপনারা জেনে রাখুন,ববাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে গেছে , এর বিরোধীতা করে কোন লাভ নেই।" তখন আলেমগন তাঁকে পাগল বলে আখ্যায়িত করে ছিল।

জনাব হুছাইনী পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ও পাকবাহিনী কর্মকর্তাদের হুশিয়ার করে দিয়ে বলেন-তোমরা যদি নির্মম অত্যাচার বন্ধ না কর নিশ্চয়ই জেনে রাখ তোমাদের হুকুমাত ধ্বংস হয়ে যাবে। তোমাদের বিজয় অসম্ভব। এ দেশের মাটি থেকে লাজ্ঞিত হয়ে তোমাদের বিদায় নিতে হবে। ঠিক তাই হল। প্রতিনিয়ত মুক্তি ফৌজেরা দলে দলে এসে হুজুরের কাছে দোয়া চাইতো। বিজয় দিবসে মুক্তিযোদ্ধারা একত্র হয়ে কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে ক্যাপ্টেন মতিউর রহমানের নেতৃত্বে হুছাইনীকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। তাছাড়া স্বাধীনতার ১৭ দিন বয়সের সময় পাকুরিয়া মাদরাসায় অনুষ্ঠিত সভায় সৈয়দ আঃ সুলতানসহ বহু আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে তাদের বক্তব্য -ধর্ম ও রাজনীতি সম্পূর্ণ আলাদা এর বিরুদ্ধে জনাব হুছাইনী তার ভাষনে জোর প্রতিবাদ করেন।

তিনি বলেন “আদ্দীনু ওয়াল মুলকু তাওআমান” অর্থাৎ ধর্ম ও রাজনীতি জমজ সন্তানের ন্যায়। রাজনীতিতে তিঁনি কখনও পিছপা ছিলেন না। তিনি পাকুন্দিয়া মাদরাসা ময়দানে তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জনাব নূরুল আমিন ও ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস ময়দানে পাকিস্তানের রাষ্ট্র প্রধান জনাব আইয়ূব খানের অনুরূপ উক্তির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেছিলেন। জনাব হুছাইনী খুবই ন্যয় পরায়ণ সৎ ও প্রতিবাদী ছিলেন।

তার অনেক মোজেজা এখনো লোক মুখে প্রচলিত ও প্রতিফলিত। কয়েক যুগ আগের কথা – বরিল্যা গ্রামের উপর দিয়ে রাজাবাড়িয়া যাচ্ছিলেন হুছাইনী হুজুর, সাথে অনেক লোক। হঠাৎ একটি জলাধারের নিকট থেমে গেলেন। বললেন- বেকুবের দল,মসজিদে বীজ তলা করে রেখেছে। সাথী শিষ্য তাঁর এক প্রিয় ছাত্র ইয়াকুব আলী বললেন-এখানে মসজিদ কোথায় দেখলেন হুজুর ? হুছাইনী সেখানে দু-রাকাত নামাজ পড়ে চলে গেলেন। ২ বছর পর সেখানে ঠিকই একটি মসজিদ ও ফুরকানিয়া মাদরাসা স্থাপিত হয়।

আউলিয়াপাড়া যাওয়ার পথে একটি শিমুল গাছ। গাছের কান্তা (বড় শিঁকড়) রাস্তা বরাবর বাড়তেছে । হুছাইনী হজুর সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় তার চোখে পড়লো এইগাছের কান্তা। তিনি গাছের কান্তায় হাত বুলিয়ে বললেন-যেন রাস্তার দিকে আর না আসে। তাহলে রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচলে অসুবিধা হবে। কিছুদিন পর কান্তাটি আবার ইউ আকৃতির মত ঘুরে গেল। এখনো গাছটি সেখানে কালের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে।

এলাকার প্রবীণ মুরুব্বীদের কাছ থেকে জানা যায় বাংলাদেশের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ এরশাদ তার জীবদ্দশায় কোন এক সময় এসেছিলেন হুজুরের দোয়া নিতে, রাষ্ট্রপতি এরশাদকে তার নামের আগে হোসাইন শব্দটি সংযুক্ত করে দেন এই বুজুর্গ। এর পর থেকে তার নামের আগে হোসাইন যুক্ত করে লিখা হয় হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ ।

আল্লামা আব্দুল হালিম হুছাইনী (রহঃ) পৃথীবির মায়া ত্যাগ করে মহান এই সাধক, বুজুর্গ নিজ বাড়িতে ১৯৮৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর, ২৭ ভাদ্র, ৭ মহরম শুক্রবার দিবাগত রাত্রে ইন্তেকাল করেন। পরদিন পাকুন্দিয়া পাইলট হাই স্কুল মাঠে লাখো মুসল্লির অংশগ্রহনে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মরহুমের জানাজায় ইমামতি করেন-আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আলেম আল্লামা সৈয়দ মোসলেহ উদ্দিন (রহঃ)। জানাজা শেষে তাঁর নিজের হাতে গড়া তারাকান্দি জামিয়া হুসাইনিয়া আছ-আদুল উলুম কওমি ইউনিভার্সিটি ময়দানে চির নিদ্রায় শায়িত করা হয়। সংগ্রহীত

শুক্রবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

পাকুন্দিয়ায় দৈনিক আমার সংবাদের ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত




মোঃ সুমন আহমেদ, পাকুন্দিয়া থেকে: সারা দেশের ন্যায় কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় জনপ্রিয় জাতীয় দৈনিক আমার সংবাদ এর ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে।

আজ শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারী) সকালে অনলাইন পোর্টাল পাকুন্দিয়া প্রতিদিন কার্যলয়ে এর আনুষ্ঠানিক ভাবে কেক কেটে দৈনিক আমার সংবাদ পত্রিকার ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনের সূচনা করেন প্রধান অতিথি পাকুন্দিয়া বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাইজুল ইসলাম সাগরসহ অতিথিবৃন্দ।

এর আগে দৈনিক আমার সংবাদ এর পাকুন্দিয়া উপজেলা প্রতিনিধি এম.এ. হান্নান এর সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় পাকুন্দিয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন দৈনিক শতাব্দীর কন্ঠের ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি মোঃ ওমর ফারুক, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আল মামুন, বাংলাদেশ রবিদাস উন্নয়ন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি দিলীপ রবিদাস, পাকুন্দিয়া প্রতিদিনের নিজস্ব প্রতিবেদক সুলতান আফজাল আইয়ুবী, দৈনিক আলোকিত সকালের পাকুন্দিয়া প্রতিনিধি জাহিদ হাসান মুক্তার, পাকুন্দিয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শোয়েব রাসেল, দৈনিক দিন প্রতিদিনের কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি মোঃ সুমন মিয়া, ঢাকা নিউজের পাকুন্দিয়া প্রতিনিধি মোকারিম হোসেনসহ স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ।

এসময় বক্তারা দৈনিক আমার সংবাদ পত্রিকার সার্বিক উন্নতি কামনা করে বলেন, দৈনিক আমার সংবাদ পত্রিকাটি যেনো আগামী দিনে গণমানুষের মুখপাত্র হিসেবে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের প্রিয় পত্রিকা হয়ে উঠতে পারে এ দোয়াই করি।

রবিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

সৌদি আরবের রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় পাকুন্দিয়ার শ্রমিক নিহত

 



সৌদি আরবের রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় পাকুন্দিয়ার শ্রমিক নিহত 


মোঃ সুমন আহমেদ, পাকুন্দিয়া প্রতিনিধি: আজ ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২২খ্রি. সৌদি আরবের সিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় মিজানুর রহমান হারিছ (৩২) নামে পাকুন্দিয়ার এক যুবক নিহত হয়েছেন।


বাংলাদেশ সময় গত বৃহস্পতিবার  (৯ ফেব্ররুয়ারি, ২০২২খ্রি.) বিকাল ৫টার দিকে সৌদি আরবের রিয়াদ এলাকায় একটি মালবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারালে তিনি আহত  হন। নিহতের পরিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।


মিজানুর রহমান (হারিছ) পাকুন্দিয়া উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের ঘাগড়া গ্রামের সরদার বাড়ির সাহাব উদ্দিনের ছেলে।  সৌদি আরবের রিয়াদে একটি বলুদিয়া কোম্পানিতে চাকরি করতেন তিনি। তিনি মৃত্যুকালে দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রেখে যান।


ঘটনা সম্পর্কে নিহতের ভাই  ফরিদ  জানান, গত সাত বছর আগে তার ভাই সৌদি আরবে যান। সেখানে তিনি রিয়াদে বসবাস করতেন। গত ৯ ফেব্ররুয়ারি, ২০২২খ্রি. বৃহস্পতিবার সকালে ডিউটিতে যান। ডিউটি শেষে সৌদি সময় বিকাল চারটা বাসায় ফিরছিলেন মিজানুর রহমান। পথে মালবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। পরে পুলিশ এসে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। আজ ১৩ ফেব্ররুয়ারি, ২০২২খ্রি. রবিবার সকালে চিকিৎসারত অবস্থা ইন্তেকাল করেন। 


তিনি আরও জানান, নিহত মিজানুর রহমান (হারিছ) এর পিতা সাহাব উদ্দিন (১১২) বলেন, গত ৭ বছর আগে আমার ছেলেকে সৌদি আরব রিয়াদে পাঠিয়েছি। এখন সে নাই, এ কথা ভাবতেই পারি না। দূর দেশে সে মারা গেছে, আমরা তার লাশটা কি পাবো?’ পরিবারের একমাত্র ছোট ছেলেকে হারিয়ে পুরো পরিবারে শোকের মাতল নেমে এসেছে।


মিজানুর রহমান স্ত্রী কল্পনা বেগম দুই ছেল ও এক মেয়ের কথা ভেবে বার বার মূর্চা যাচ্ছেন।  


তিনি বলেন, মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা সরকারের কাছে আকুতি জানাচ্ছি, আমার স্বামীর মৃতদেহ আমাদের কাছে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে দিক। আমরা অন্তত যেন নিজ হাতে কবর দিতে পারি। আমার স্বামীর পাঠানো টাকা দিয়ে আমার পরিবারের  এবং আমার শশুরের ওষুধ খরচ চলতো। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে । সবাই তার দিকে চেয়ে থাকতাম। এখন আমাদের কি হবে? 


আমার নাতি নাতনি পুত্রবধূর কি হবে।’ এসব কথা বলে বার বার কান্নায় ভেঙে পড়েন বৃদ্ধ সাহাব উদ্দিন।

পাকুন্দিয়ায় ৩ দিন ব্যাপী ভূমি মেলা-২০২৫

মোঃ স্বপন হোসেন: কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ৩ দিন (২৫-২৭/০৫/২০২৫ খ্রিঃ) ব্যাপী ভূমি মেলা ২০২৫ উদবোধন করা হয়েছে। আজ (রবিবার) সকালে উপজেলার উপজেল...